Election News: রাজনীতির অঙ্ক যতই বদলাক, Mamata Banerjee–র কাছে ভবানীপুর যেন এখনও আবেগের অন্য নাম। রবিবার সন্ধ্যায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই ব্যক্তিগত টানাপড়েনের কথাই শোনালেন তিনি। কর্মিসভার মাঝে হঠাৎই উঠে এল তাঁর পারিবারিক স্মৃতি—“ভবানীপুরের সবাই আমাকে চেনেন। বাড়ি বদলের কথা উঠলেও আমি এই জায়গা ছাড়িনি। আসলে আমার মা আমাকে এই বাড়ি ছাড়তে দেননি।” এই আবেগঘন মন্তব্যে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আলাদা সাড়া পড়ে যায়।
তবে শুধু আবেগ নয়, সভামঞ্চ থেকে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ভোটের মুখে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই—এই বার্তাই সামনে রেখেছেন দল। একই সুরে কড়া সতর্কতা শোনালেন মমতা নিজেও। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধীদের বিরুদ্ধে টাকা বিলির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হলেও ভোটের সময় অর্থ ছড়িয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক স্তরে সাম্প্রতিক রদবদল নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৫০ জন অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “কোনও অঘটন ঘটলে দায় নেবে কে? শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রকেই জবাব দিতে হবে।”
ভোটের দিন ও তার পরবর্তী সময় নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করে মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন—ভোট শেষ মানেই দায়িত্ব শেষ নয়। তাঁর আশঙ্কা, লোডশেডিং বা অন্য কোনও উপায়ে কারচুপির চেষ্টা হতে পারে। তাই স্ট্রং রুম পাহারায় কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি যাঁরা আইনি সমস্যায় পড়বেন বা গ্রেফতার হবেন, তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন দলনেত্রী।
সবশেষে নিজের বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দেন তিনি। বাংলায় জয়ের পর তৃণমূলের পরবর্তী লক্ষ্য হবে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় ভূমিকা নেওয়া—এই বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। ভোটের আগে ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে আবেগ আর কৌশল—দুই মিলিয়েই সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

