Election News: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রাজ্যে ভোটের আবহ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত কর্মিসভা থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া ও সতর্ক বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee। ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে আয়োজিত এই সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না এবং ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর কথায়, “মাথা ঠান্ডা রেখে চলবেন, ওরা বাইরে থেকে লোক এনেছে বাংলায়,”—অর্থাৎ বহিরাগত এনে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেই অভিযোগ তাঁর।
এদিনের সভায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত তিন দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল হয়েছে এবং প্রায় ৫০ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “এর পরে যদি কোনও ঘটনা ঘটে, তার দায় কে নেবে? শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রকেই জবাব দিতে হবে।” একইসঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে টাকা বিলির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজন মেটাতে না পারলেও ভোটের সময় অর্থ ছড়িয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেন। তাঁর ঘোষণা, SIR প্রক্রিয়ায় যাঁরা সমস্যায় পড়বেন বা যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের পাশে আইনি ভাবে দাঁড়াবে তৃণমূল। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ—এই ধারণা ভুল বলে স্পষ্ট করেন তিনি। কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “ভোট শেষ মানেই বাড়ি চলে যাবেন না। লোডশেডিং হতে পারে, ইভিএম নিয়ে সমস্যা হতে পারে—তাই স্ট্রং রুমের উপর নজর রাখতে হবে।”
বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মমতা এদিন তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দেন। তিনি বলেন, বাংলায় জয় নিশ্চিত করার পর তৃণমূলের পরবর্তী লক্ষ্য হবে দিল্লির দিকে এগোনো। কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানান।
সভায় ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে ভবানীপুরের সঙ্গেই তাঁর জীবন জড়িয়ে রয়েছে। একসময় বাড়ি বদলের কথা উঠলেও মায়ের আবেগের কারণেই তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তাঁর কথায়, “ভবানীপুরের মানুষ আমাকে চেনেন, আর আমার মা আমাকে কখনও এই এলাকা ছাড়তে দেননি।”

