ITC: নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবসেই শেয়ার বাজারে বড় চমক। তামাক খাতের শেয়ারে হঠাৎ ধস নামায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। সোমবার বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ITC–র শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। একইসঙ্গে Godfrey Phillips India–র শেয়ারে পতনের মাত্রা আরও বেশি, প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত।
এই আকস্মিক পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর নতুন এক্সাইজ ডিউটি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। ডিসেম্বর মাসে সংসদে সেন্ট্রাল এক্সাইজ সংশোধনী বিল ২০২৫ পাস হওয়ার পর থেকেই বাজারে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নতুন আইনের মাধ্যমে আগে চালু থাকা অস্থায়ী লেভি ব্যবস্থা বাতিল করে স্থায়ীভাবে এক্সাইজ ডিউটি বাড়ানোর পথ পরিষ্কার করেছে কেন্দ্র।
অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই নতুন এক্সাইজ ডিউটি বর্তমান জিএসটির অতিরিক্ত হিসেবে ধার্য হবে। বর্তমানে সিগারেটের ওপর ৪০ শতাংশ জিএসটি রয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত হবে বাড়তি এক্সাইজ কর। সিগারেটের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতি এক হাজার স্টিকের জন্য করের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২,০৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত।
বর্তমানে ভারতে সিগারেটের খুচরো দামের প্রায় ৫৩ শতাংশ কর হিসেবে নেওয়া হয়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৭৫ শতাংশের তুলনায় কম। সরকারের লক্ষ্য একদিকে যেমন ধূমপান নিরুৎসাহিত করা, তেমনই রাজস্ব আদায় বাড়ানো। তবে এই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে, কারণ কর বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে সিগারেটের দাম, বিক্রি এবং কোম্পানির মুনাফার ওপর।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এক্সাইজ ডিউটির ফলে ৭৫ থেকে ৮৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের সিগারেটের দাম ২২ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ITC–র মোট সিগারেট বিক্রির বড় অংশ এই ক্যাটাগরি থেকেই আসে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, প্রতি স্টিকের দাম ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে এবং চাহিদা কমার আশঙ্কা বাড়াবে।
এই আশঙ্কার জেরেই নতুন বছরের প্রথম দিনেই বিনিয়োগকারীরা তামাক খাতের শেয়ার থেকে দূরে সরে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। যদিও ITC শুধুমাত্র তামাক ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল নয়—খাদ্যপণ্য, হোটেল ও অন্যান্য খাতেও তাদের বড় উপস্থিতি রয়েছে—তবুও বাজারের বড় অংশ এখনও কোম্পানিটিকে মূলত সিগারেট ব্যবসার সঙ্গেই যুক্ত করে দেখে। ফলে সিগারেট সংক্রান্ত যে কোনও নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ITC–র শেয়ারে পড়ে।
নতুন কর কাঠামো ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তার আগে কোম্পানিগুলি কীভাবে দাম সমন্বয় করে এবং বিক্রির কৌশল বদলায়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ। আপাতত বাজারের চোখ সেদিকেই। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই তামাক খাত যে চাপে পড়েছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

