ভোটের আগে কড়া নজরদারিতে ছিল পুলিশ। আর সেই নাকা চেকিংয়েই ধরা পড়ে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গভীর রাতে সবংয়ের দেহাটি ব্রিজের কাছে চেকিং চলাকালীন একটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে ‘গোপন’ বিয়ের চক্রান্ত—গাড়িতে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এক নাবালিকা কনেকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে নিয়মমাফিক নাকা চেকিং চালাচ্ছিল সবং থানার পুলিশ। সেই সময় একটি চার চাকার গাড়িকে থামানো হলে যাত্রীদের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি চালাতেই প্রকাশ্যে আসে আসল ঘটনা।
জানা যায়, ওই কিশোরী সবং থানার দশগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। বয়স এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। অভিযোগ, এগরা এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। আইনের চোখ এড়িয়ে রাতের অন্ধকারে গোপনে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পরিবারের।
কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গাড়ি থেকে নাবালিকাসহ সকলকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিয়ের আনন্দের বদলে রাত কাটে থানাতেই।
পরে খবর পেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থানায় পৌঁছন। ভবিষ্যতে এ ধরনের বেআইনি কাজ আর করা হবে না—এই মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি নেওয়ার পর নাবালিকাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ফের সামনে এল বাল্যবিবাহের মতো গুরুতর সামাজিক সমস্যার বাস্তব চিত্র। একইসঙ্গে ভোটের আগে প্রশাসনের কড়া নজরদারির প্রমাণও মিলল এই ঘটনায়। পুলিশের তৎপরতায় একটি বেআইনি বিয়ে মাঝপথেই রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

