125 Days Work Scheme West Bengal: ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রকল্পে ভুয়ো হাজিরা, কাজ না করেই মজুরি তোলা এবং অনিয়ম রুখতে চালু করা হচ্ছে জিও-ফেন্সিং বা লোকেশন লক প্রযুক্তি। প্রশাসনের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে শ্রমিকরা নির্দিষ্ট কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলেই কেবল তাঁদের উপস্থিতি নথিভুক্ত হবে এবং সেই ভিত্তিতেই মজুরি প্রদান করা হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজ শুরু হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কর্মস্থলের একটি ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করতে হবে। ওই মানচিত্রকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে। কাজ চলাকালীন শ্রমিকরা যদি সেই নির্ধারিত এলাকার ১০ মিটারের মধ্যে থাকেন, তবেই তাঁদের উপস্থিতি বৈধ বলে গণ্য হবে।
কোনও শ্রমিক নির্ধারিত এলাকা ছেড়ে বাইরে চলে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই ডিজিটাল সিস্টেমে সতর্কবার্তা দেখাবে। সেই শ্রমিককে অনুপস্থিত হিসেবে ধরা হবে এবং ওই দিনের মজুরি আটকে যেতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়ো হাজিরা, এক জায়গার কাজ অন্য জায়গায় দেখানো কিংবা কাজ না করেই সরকারি অর্থ তোলার মতো অনিয়ম অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি ব্লকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভাঙড় ও সাগর ব্লকে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হলেও আগামী দিনে জেলার সব ব্লক এবং প্রায় ৩১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অতীতে কর্মসংস্থান প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রকৃত শ্রমিকরাই প্রকল্পের সুবিধা পান এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায়।
জানা গিয়েছে, প্রতিটি ব্লকে প্রায় ৫০ হাজারের মতো জব কার্ডধারী রয়েছেন। ১২৫ দিনের এই প্রকল্পে অদক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক ৩০০ টাকা এবং অল্প দক্ষ শ্রমিকদের প্রায় ৪৫০ টাকা মজুরি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, আগের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের তুলনায় মজুরির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
প্রশাসনের আশা, জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালু হলে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

