West Bengal Morning School: রাজ্যের একাধিক জেলায় ফের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে চালু করা হচ্ছে ‘মর্নিং স্কুল’। জনগণনা ২০২৭-এর প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা যুক্ত থাকায় পঠনপাঠনের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তর দিনাজপুর-সহ একাধিক জেলার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ (DPSC) এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জনগণনা সংক্রান্ত দায়িত্বে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিযুক্ত রয়েছেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান এবং ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে জেলার সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবিলম্বে সকালের শিফটে পঠনপাঠন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনা ২০২৭ কর্মসূচির জন্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। দিনের একটি বড় অংশ এই সরকারি কাজে ব্যয় হওয়ায় নিয়মিত শ্রেণি পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই প্রাথমিক স্তরে ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছর তাপপ্রবাহের কারণে রাজ্যের অধিকাংশ স্কুলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মর্নিং সেশনে পঠনপাঠন চালানো হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নিয়মিত সময়সূচিতে ক্লাস শুরু হয়। তবে এবার আবহাওয়া নয়, প্রশাসনিক প্রয়োজনে ফের সকালের শিফটে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই উত্তর দিনাজপুরের পাশাপাশি হাওড়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতেও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের তরফে একই ধরনের নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শিক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর, অন্যান্য জেলার পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সেখানেও একই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে।
প্রশাসনের দাবি, শিক্ষক-শিক্ষিকারা জনগণনার দায়িত্ব পালন করলেও যাতে পড়ুয়াদের পড়াশোনায় কোনও প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। জনগণনা সংক্রান্ত কাজ চলাকালীন আপাতত মর্নিং সেশনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠন চলবে। পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে।

