Messi Kolkata : লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত চরম বিশৃঙ্খলায় রূপ নিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মেসিকে একঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক চড়া দামে টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে হাজির হলেও, প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। উল্টে ভাঙচুর, ক্ষোভ ও হতাশার ছবি সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং।
অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, যুবভারতীতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আড়ালে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরিকল্পিতভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের ভিতরে যেখানে ১০ টাকার জলের বোতল, সেখানে তা বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। এমনকি খাবার ও অন্যান্য পরিষেবাতেও অস্বাভাবিক মূল্য নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং বলেন, “মানুষ মেসিকে দেখতে এসেছিল। কিন্তু কার্যত মেসিকে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্টেডিয়াম হয়তো নামমাত্র দামে বুক করা হয়েছিল, কিন্তু তার দায় সাধারণ মানুষের নয়। কোটি কোটি টাকা দর্শকদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, এই ঘটনায় বড় কোনও মাথা জড়িত রয়েছে এবং বিষয়টি ইডি দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার মাঝপথে প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে উঠে গেলেন, সেই বিষয়টিও ব্যাখ্যার দাবি রাখে বলে মনে করেন তিনি। “ডিজি বলেছিলেন—সবাই বুঝতে পারছেন। কিন্তু সেই কথা বলার পরই কেন তিনি উঠে গেলেন?”—প্রশ্ন তুলেছেন অর্জুন সিং।
প্রসঙ্গত, মেসিকে দেখতে কেউ ১০ হাজার, কেউ ১২ হাজার, আবার কেউ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু ভিআইপি ভিড় ও অব্যবস্থার কারণে মেসিকে দেখা তো দূরের কথা, দর্শকদের বড় অংশ মাঠেই ঢুকতে পারেননি। ক্ষুব্ধ জনতা ব্যারিকেড ভাঙে, স্টেডিয়ামে চলে ভাঙচুর। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানের পরিচালক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানিয়েছেন, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে মেসির সফর ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কলকাতার ভাবমূর্তি যে বড় ধাক্কা খেল, তা মানছেন অনেকেই।

