দ্য মেদিনীপুর টাইমস ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (Election) আগে প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তাঁর অভিযোগ, নজিরবিহীনভাবে বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদেরও ব্যাপক হারে বদলি করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।
গত রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পর থেকেই একাধিক প্রশাসনিক রদবদল হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar-কে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু তাতে কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।
এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যে সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ থাকার কথা, সেগুলিকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো হচ্ছে। এতে সংবিধানের মূল চেতনার ওপর আঘাত লাগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
The manner in which the Election Commission has singled out and targeted Bengal is not just unprecedented- It is deeply alarming. Even before the formal notification of elections, more than 50 senior officials including the Chief Secretary, Home Secretary, DGP, ADGs, IGs, DIGs,… pic.twitter.com/ITipND3qYr
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 19, 2026
ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যা আদালতের নির্দেশের বিরোধী। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আইবি, এসটিএফ ও সিআইডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার আধিকারিকদের বেছে বেছে সরানো হচ্ছে, যা প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজেপিকেও এই প্রসঙ্গে আক্রমণ করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার বাংলাকেই নিশানা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার মধ্যে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে বলেন, যাঁদের সরানো হচ্ছে, তাঁদেরই আবার অন্য দায়িত্বে নিয়োগ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র সঙ্গে তুলনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভয় দেখিয়ে বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি রাজ্যের আধিকারিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত মানুষই এর জবাব দেবে।

