SIR issue: SIR ফর্ম বিতরণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই উতপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলওরা যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে SIR ফর্ম বিলি করছেন, ঠিক সেই সময়ই কলকাতার রাস্তায় নেমে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধর্মতলার আম্বেদকর মূর্তি থেকে শুরু হয়ে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত সংবিধান হাতে পদযাত্রা করলেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকেও তিনি আহ্বান জানালেন— “এই লড়াই শুধু তৃণমূলের নয়, এটা দেশের সংবিধান বাঁচানোর লড়াই।”
মিছিল শেষে বক্তৃতায় মমতা সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর কথায়, “SIR-এর নামে ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি। কেউ হকার, কেউ বা দিনমজুর— সবাই আতঙ্কে আছেন, নাম বাদ যাবে কিনা সেই চিন্তায়। কিন্তু মনে রাখবেন, বাংলার একজন ভোটারের নাম বাদ গেলেই এই বিজেপি সরকার আর থাকবে না।”
মমতা আরও বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললেই কেউ বাংলাদেশি হয় না। আবার হিন্দি বা উর্দু বললেই কেউ পাকিস্তানি নয়। বিজেপির নেতারা অর্ধশিক্ষিত, এরা স্বাধীনতার ইতিহাসই জানে না।”
তাঁর দাবি, বিজেপি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনও ভাবেই কারও নাগরিকত্ব বা ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না। বাংলায় জন্মেছেন, বাংলায় থাকছেন, এই মাটির সন্তান আপনি— আপনিই ভোটার।”
তৃণমূল নেত্রীর কটাক্ষ, “২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আমরা পেয়েছি ৪০ শতাংশ ভোট, ওরা পেয়েছে ৩৯ শতাংশ। এখন দুই শতাংশ ভোটের জন্য বাংলায় সরকার গড়ার স্বপ্ন দেখছে! এই বিজেপি মূর্খতার স্বর্গে বাস করছে।”
তৃণমূলের এই প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি পাল্টা দাবি করেছে— তৃণমূল ভুল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র বলেন, “SIR বা ভোটার তালিকা আপডেটের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের নিয়মে হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, SIR ইস্যু এখন কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, রাজ্যের আগামী নির্বাচনের অন্যতম রাজনৈতিক মঞ্চ হয়ে উঠেছে। মমতা যেখানে ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্ন তুলছেন, বিজেপি সেখানে এটিকে “ভোটব্যাংক রক্ষার নাটক” বলেই দেখছে।
এই প্রেক্ষিতে এক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মন্তব্য— “মমতার ‘একজন ভোটারের নাম বাদ গেলেই সরকার ভাঙব’ বার্তা আসলে তৃণমূলের মূল ভোটার ঘাঁটিকে একত্রিত রাখার কৌশল। সামনে পঞ্চায়েত ও লোকাল বডি ভোট— তাই এই হুঁশিয়ারি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।”

