পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাদুতলা–লালগড় রাজ্য সড়ক এখন কার্যত মৃত্যু–ফাঁদ। বছরের পর বছর মেরামত না হওয়ায় এই সড়কের বেহাল দশা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার সঙ্গেও তুলনা করা যায় না। শুক্রবার সেই ক্ষোভই ফেটে পড়ে শালবনির পিড়াকাটা সংলগ্ন পিন্ড্রাকুলি এলাকায়। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তায় ধর্ণা দিয়ে পথ অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে রাস্তা জুড়ে থমকে দাঁড়ায় একের পর এক বাস, ট্রাক, ছোট গাড়ি। পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে এবং প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত অবরোধ ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ—এই ১৩ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থার জেরে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হচ্ছে। স্কুল–কলেজ পড়ুয়ারা প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করছে। রাস্তার উপর বড় বড় গর্ত, পিচের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। অথচ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তায় যাতায়াত করেন।
ক্ষোভ আরও বেড়ে যাচ্ছে এই কারণে যে, শালবনির বিধায়ক তথা মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জ্যোতিপ্রসাদ মাহাতো—সকলের বাড়ি এই রাস্তার উপর। কিন্তু বছর ধরে রাস্তায় পরিবর্তন নেই। স্থানীয়দের বক্তব্য, “আমরা শতবার জানিয়েছি, কেউ কিছু করেনি। এবার যদি স্থায়ীভাবে কাজ না হয়, বড় আন্দোলন হবেই।”
জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ জানিয়েছেন, “চ্যাংশোল–পিড়াকাটা পর্যন্ত পথ অস্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়েছে। পিড়াকাটা–কয়মা পর্যন্ত রাস্তা সত্যিই বেহাল। পুরো রাস্তা নতুন করে নির্মাণের জন্য ৬০ কোটি টাকার প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।”
পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ার চিন্ময় সাহা জানান, আপাতত অস্থায়ী মেরামত চলছে। তবে ব্লক সভাপতি জ্যোতিপ্রসাদ মাহাতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এইভাবে ইট ফেলে মেরামত করলে বর্ষার আগেই রাস্তা আবার ভেঙে পড়বে। স্থায়ী সংস্কার চাই।”
উল্লেখ্য, ভাদুতলা–লালগড় রাজ্য সড়কের চ্যাংশোল থেকে লালগড় পর্যন্ত ২০ কিমি রাস্তাই দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ অবস্থায়। পুজোর সময় চ্যাংশোল–পিড়াকাটা পর্যন্ত ৭ কিমি অস্থায়ীভাবে ইট ফেলে মেরামত করা হলেও স্থানীয়রা তা মানছেন না। তাঁদের দাবি—“আমরা কাঁচা সংস্কার নয়, স্থায়ী সমাধান চাই।”

