Debra: প্রশাসনিক গুরুগম্ভীরতা, দিনভর বৈঠক আর ফাইলের স্তূপ—এই চেনা ছবির বাইরেও যে একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের অন্য রকম সত্তা থাকতে পারে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন ডেবরার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)। বুধবার রাতে বালিচকের আদি উৎসবের মেলায় সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে একেবারে অন্য রূপে ধরা দিলেন তিনি।
সারাদিন দপ্তরের ব্যস্ততা, একের পর এক প্রশাসনিক কাজের চাপের পরেও প্রোটোকল, সরকারি গাড়ি কিংবা নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ছাড়াই মেলায় হাজির হন বিডিও। কোনও আলাদা পরিচয় নয়, সাধারণ দর্শনার্থীর মতোই ভিড়ের মধ্যে ঘুরে বেড়ান তিনি।
ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ন’টার কাছাকাছি। মেলার ঝলমলে আলো, মাইকের শব্দ আর মানুষের কোলাহলের মধ্যেই হঠাৎ গুঞ্জন—নাগরদোলার লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছেন যিনি, তিনি কি সত্যিই ডেবরার বিডিও? প্রথমে বিশ্বাস না হলেও, কাছে গিয়ে দেখে চমকে যান অনেকেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, শুধু মেলা ঘোরা নয়—রীতিমতো শিশুদের মতো উচ্ছ্বাসে মেলার নানা রাইড উপভোগ করেন তিনি। কখনও ব্রেক ড্যান্সে চড়া, কখনও মরণকূপের বাইক খেলা দেখা—কিছুই বাদ দেননি। মেলার আনন্দে যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলেই গিয়েছিলেন প্রশাসনিক দায়িত্বের ক্লান্তি।
ভোজনরসিক বাঙালি হিসেবেও ধরা দিল বিডিও-র অন্য রূপ। রাস্তার ধারের স্টল থেকে ফুচকা, পাঁপড় ভাজা, এগরোল কিনে খেতে দেখা যায় তাঁকে। খাবার কিনতে বা খাওয়ার সময়ে কোথাও পদমর্যাদার কোনও ভেদাভেদ চোখে পড়েনি। মেলার ধুলো-মাখা আনন্দে যেন মিলিয়ে গিয়েছিল সরকারি আভিজাত্য।
এছাড়াও মেলায় থাকা স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের স্টলগুলিতেও সময় কাটান তিনি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যা শোনেন এবং ঘর সাজানোর সামগ্রীও কেনেন।
মেলায় উপস্থিত এক দর্শনার্থীর কথায়, “আমরা ওনাকে সাধারণত অফিস বা মিটিংয়েই দেখি। কিন্তু আজ আমাদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনছেন, রাইডে চড়ছেন—দেখে সত্যিই ভালো লাগল। বুঝলাম, উনিও আমাদের মতোই উৎসবপ্রেমী মানুষ।”
ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, কাজের চাপ যতই থাকুক, জনজীবনের সঙ্গে মিশে থাকতেই পছন্দ করেন বিডিও। উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের মুখের হাসি দেখাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

