অমিত খিলাড়ি, সবং: ভোরের সেই কান্নার রোল আর শ্মশানের নিস্তব্ধতা পেরিয়ে আজ শেষ হলো মধুমিতার জীবনের সবথেকে কঠিন মাধ্যমিক পরীক্ষা। যে কলম দিয়ে সাতদিন আগে সে তার বাবার শেষ বিদায়ের শোককে সাদা পাতায় বন্দি করেছিল, আজ সেই কলম থামল একরাশ প্রশান্তি আর লড়াইয়ের গল্প নিয়ে।
সবংয়ের সেই লড়াকু কিশোরী মধুমিতা কর, যার ছবি দেখে সেদিন চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি গোটা বাংলা, আজ পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বেরিয়ে তার গলায় শোনা গেল এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। মাধ্যমিকের শেষ পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে মধুমিতা জানাল, প্রতিকূলতা পাহাড় সমান থাকলেও তার পরীক্ষাগুলো মোটামুটি ভালই হয়েছে। তবে আগামীর স্বপ্ন বা ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো বড় চিন্তাভাবনা সে করতে পারছে না, কারণ তার মাথার ওপর থেকে বাবার সেই আশীর্বাদের হাতটা যে চিরতরে সরে গেছে।
কিন্তু এই কঠিন সময় আর চরম বাস্তবতার সাথে লড়াই করার শক্তি সে একা পায়নি। মধুমিতা কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করছে তার নিজের স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে দশগ্রাম স্কুলের সেইসব শিক্ষকদের, যারা পরীক্ষা চলাকালীন তাকে কেবল ছাত্রীর চোখে দেখেননি বরং বাবার মতো স্নেহে আগলে রেখেছিলেন। পরিবারের দিদিরা আর প্রতিবেশীরাও যে এই কয়েকটা দিন তার মানসিক ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সেকথা বলতে গিয়ে আজও গলা ধরে আসছে তার।
মধুমিতা জানে তার লড়াইটা মাত্র শুরু হলো, তবে শোকের পাহাড় ডিঙিয়ে পরীক্ষা শেষ করার এই সাহস তাকে আগামীর পথে অনেকটা এগিয়ে দেবে। এক বুক শূন্যতা আর বাবার স্মৃতিকে পাথেয় করেই এখন জীবনের অন্য এক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে সবংয়ের এই হার না মানা মেয়েটি।

