পশ্চিম মেদিনীপুর: রবিবার ভোররাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের তেমাথানি–পটাশপুর রাজ্য সড়কের নীলা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ঘটে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুটি ডাম্পার। সংঘর্ষের পর আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে যায় একটি ডাম্পার। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটা নাগাদ পটাশপুরগামী একটি ১৬-চাকার ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ১৪-চাকার ডাম্পারকে। সংঘর্ষ এতটাই প্রবল ছিল যে, ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায় দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা গাড়িতে, এবং চারদিক জুড়ে লেলিহান শিখা দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগুন লাগার সময় বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়। ঘুম ভেঙে তাঁরা ছুটে এসে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত দমকলে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ডাম্পারটির অধিকাংশই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যে ডাম্পারটি ধাক্কা খায় সেটি গতকাল বিকেল থেকেই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। ঠিক সেই গাড়িটিতেই আজ ভোরে বিপর্যয় নেমে আসে। সৌভাগ্যবশত, ডাম্পারের ভিতরে কেউ ছিল না, না হলে প্রাণহানির আশঙ্কা প্রবল ছিল।
সবং থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি ডাম্পারই জব্দ করেছে। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, সংঘর্ষের পর থেকেই ঘাতক ডাম্পারের চালক ও খালাসি দু’জনেই পলাতক। তাঁদের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর থেকে তেমাথানি–পটাশপুর রাজ্য সড়কের ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় বেশ কিছুক্ষণ। সকাল পর্যন্ত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজ্য সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এখন প্রতিদিনের ঘটনা। পুলিশি নজরদারি না থাকায় এমন দুর্ঘটনা যে কোনও সময় আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

