সবং: রাজ্যের এক প্রান্তে নতুন স্কুল ভবন উদ্বোধন হচ্ছে জাঁকজমকভাবে, আর অন্য প্রান্তে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। সবং ব্লকের সিংপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র যেন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার এক তীব্র বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
প্রায় ৬০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল এই মাটির স্কুলঘরটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেওয়াল ক্ষয়ে গিয়েছে, ছাদের টিনে ফুটো, সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে জল ঢোকে। কোথাও দেয়াল ঝুলে পড়ছে, কোথাও সাপের উপদ্রব—তবুও ক্লাস বন্ধ নেই। শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের প্রাণ হাতে নিয়েই চলছে পাঠদান।
বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, “আমরা নিজেরাই ভয় পাই, কিন্তু ক্লাস তো বন্ধ করা যায় না। ছেলেমেয়েরা নিয়মিত আসে, কিছু শেখার আগ্রহ তাদের প্রবল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
বর্তমানে এই স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৯১। তাদের অধিকাংশই প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী। অভিভাবকেরা বলেন, “এই স্কুলই আমাদের গ্রামের একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই অবস্থায় সন্তানদের পাঠাতে ভয় লাগে। আজ না হয় কাল যদি কিছু হয়ে যায়!”
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বহুবার স্কুলের উন্নয়নের দাবিতে প্রশাসনের কাছে দরবার করা হয়েছে। স্কুল কমিটি থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত অফিস—সব জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শুধু আশ্বাসই মিলেছে, কাজের হালফিল দেখা মেলেনি।
বিদ্যালয়ের পাশেই ঘন জঙ্গল, বৃষ্টির দিনে আশপাশ ভিজে কাদাময় হয়ে যায়। দেয়ালের ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলায় সাপ, বেজি, এমনকি শেয়াল পর্যন্ত দেখা যায় স্কুল চত্বরে। এমন বিপজ্জনক পরিবেশে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে ক্লাস।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মতে, “সরকারের নজর দরকার এখনই। স্কুলের ভবন না বদলালে বড় বিপদ ঘটতে পারে। আমরা চাই অন্তত একটা স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অভিভাবকদের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— “আর কতদিন এভাবে ভাঙা ঘরে পড়বে আমাদের সন্তানরা? কবে হবে নতুন ভবন?” যদিও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সবংয়ের বিডিও ও সবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কেউই মন্তব্য করতে চাননি। স্থানীয় মহলে ক্ষোভ—“দায় এড়াতে চুপ করে আছেন প্রশাসন।”
তবে প্রশ্ন রয়ে গেল—রাজ্যের শিক্ষা প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও কেন এখনও অনেক গ্রামীণ প্রাথমিক বিদ্যালয় এমন বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে? শিক্ষা ভবনের ভিত্তি কি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ

