পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের বহুল আলোচিত সোনা দোকান ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের খুকুড়দহ এলাকার জয়ন্তী জুয়েলার্সের মালিক দেবাশিস সামন্ত। সোমবার বিকেলে তাঁকে দোকান থেকে গ্রেপ্তার করে তমলুক থানার পুলিশ এবং মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হয়।
ঘটনাটি ২২ সেপ্টেম্বরের। তমলুকের মিলননগরে অবস্থিত একটি সোনা দোকানে নগদ ও সোনা মিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ডাকাতি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে পেশাদার অপরাধী ভাড়া করে এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ছক কষা হয়েছিল।
এরপর থেকেই তৎপর হয় পুলিশ। ৩০ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমীর দিন পুলিশ মূল ষড়যন্ত্রী তিনজনকে গ্রেপ্তার করে— পাঁশকুড়া থানার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য বাগ, তার প্রতিবেশী দিলীপ মাইতি, এবং চোরাই সোনা কেনার অভিযোগে দাসপুরের শ্রীকান্ত মাজি। এই তিন ধৃতের জিজ্ঞাসাবাদেই উঠে আসে নতুন তথ্য।
ধৃতদের জেরায় পুলিশ জানতে পারে, ডাকাতি হওয়া সোনা কিনেছিল দাসপুরের খুকুড়দহ বাজারের জয়ন্তী জুয়েলার্স। এরপর পুলিশ ধৃতদের নিয়ে সোমবার বিকেলে ওই দোকানে হানা দেয়। দোকানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ডাকাতি হওয়া সোনার একটি অংশ। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় দোকান মালিক দেবাশিস সামন্তকে।
দাসপুর থানার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশিস সামন্তের বিরুদ্ধে এটি প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগেও চোরাই সোনা কেনার অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল পুলিশ। তাঁর বাড়ি দাসপুর থানার হরেকৃষ্ণপুরে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ডাকাতরা সোনা দোকানে অপারেশনের পর শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খারুই হয়ে রূপনারায়ণ নদীর বাঁধ ধরে কোলাঘাট পেরিয়ে দাসপুরে ঢুকে পড়েছিল। তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় ধৃত বাপ্পাদিত্য ও দিলীপ। পালানোর পথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথের ১৭২টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ তিনজনকে চিহ্নিত করে পাকড়াও করে।
এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আপাতত তিনজন ধৃত তমলুক থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ধৃত দেবাশিস সামন্তকেও মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আরও কিছু নাম উঠে আসতে পারে তদন্তে।





