Get Me Pregnant: “আমাকে মা (প্রেগনেন্ট) হতে সাহায্য করুন, মোটা টাকা পুরস্কার পাবেন”—এমন বিজ্ঞাপন দেখে ফাঁদে পা দিলেন এক যুবক। আর সেই ফাঁদে পা দিয়েই খোয়ালেন পুরো ১১ লক্ষ টাকা! মহারাষ্ট্রের পুণে শহর থেকে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইনে একটি বিজ্ঞাপন দেখেন পুণের ওই যুবক, যেখানে লেখা ছিল—‘আমাকে মা বানাতে পারেন এমন পুরুষের খোঁজে’। কৌতূহলবশত ওই বিজ্ঞাপনে সাড়া দেন তিনি। এর পরেই তাঁর কাছে আসে একটি ভিডিও বার্তা, যেখানে এক মহিলা আবেগভরে সন্তানধারণে সাহায্যের আবেদন করেন “আমাকে মা হতে সাহায্য করুন”।
এর পর থেকে শুরু হয় যোগাযোগ। প্রতারণার শিকার যুবকের অভিযোগ, তাঁকে জানানো হয়—ওই মহিলাকে মা হতে সাহায্য করতে পারলে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু শর্ত হিসাবে জানানো হয়, আগে কয়েকটি “প্যাকেজ” কিনতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফি, মেম্বারশিপ ফি, গোপনীয়তা চুক্তি ফি, প্রক্রিয়াগত খরচ—এই সব নানা অজুহাতে ধাপে ধাপে পুরো ১১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।
যখন তিনি টাকা পাঠাতে পাঠাতে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েন, তখনই বিষয়টি তাঁর সন্দেহের মনে হয়। এরপরই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে পুণে পুলিশের সিনিয়র অফিসার চন্দ্রশেখর সাওয়ন্ত জানান, “নানান নাম করে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রতারকরা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পুরো ঘটনার সাইবার ট্রেইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পিছনে একটি বড় চক্র কাজ করছে বলে আমাদের প্রাথমিক অনুমান।”
আরো পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, এটাই প্রথম নয়। ২০২২ সালে ‘প্রেগন্যান্ট জব সার্ভিস’ এবং ‘প্লেবয় সার্ভিস’-এর নামে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়েছিল এমনই প্রতারণার জাল। সেই চক্রই আবারও সক্রিয় হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের বিজ্ঞাপনে কখনই সাড়া দেওয়া উচিত নয়। কেউ টাকা চাইলেই বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
২০২২–২৩ সালে বিহারের নওয়াদা থেকে ছড়িয়েছিল ‘All India Pregnant Job Service’ নামের প্রতারণা চক্র। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। টার্গেট করা হতো বেকার ও আর্থিক সঙ্কটে থাকা যুবক-যুবতীদের। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো লাখো টাকার, আর বিনিময়ে নেওয়া হতো প্যান, আধার, ছবি, রেজিস্ট্রেশন ফি, কর বাবদ নানা অঙ্কের টাকা।
তদন্তকারীদের মতে, এবারও সেই পুরোনো চক্রই নতুন মোড়কে সক্রিয় হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট ও ওয়ালেটের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

