চলন্ত ট্রেন থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বছর পঁচিশের যুবক মানারুল শেখ। কিন্তু শেষমেশ রেল পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়ে নিজেই স্বীকার করলেন— গোটা ঘটনাই ছিল সাজানো। উদ্দেশ্য একটাই, ‘ভাইরাল’ হওয়া।
ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা এলাকায়। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ মানারুল বেলদা থানায় গিয়ে জানান, বেঙ্গালুরু থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, আধার ও প্যান কার্ড দেখতে চাওয়ার পর দু’জন যাত্রী বাখরাবাদ স্টেশনের কাছে তাঁকে ঠেলে নামিয়ে দেয়।
প্রথমে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখে। তাঁকে দ্রুত বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, শরীরে গুরুতর আঘাতের কোনও চিহ্ন নেই। এখানেই সন্দেহ দানা বাঁধে।
পুলিশি জেরায় মানারুলের কথায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাঁর কাছ থেকে আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং তিনটি ট্রেনের টিকিটও উদ্ধার হয়। এরপর বিষয়টি খড়্গপুর জিআরপি-কে জানানো হয়। দুপুরে রেল পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
সেখানেই ফাঁস হয় আসল সত্য। মানারুল স্বীকার করেন, কেউ তাঁকে ঠেলে ফেলে দেয়নি। তিনি নিজেই ট্রেন থেকে নেমেছিলেন। কেন? প্রথমে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দিলেও শেষ পর্যন্ত বলেন, ভাইরাল হওয়ার নেশাতেই এই নাটক সাজিয়েছিলেন। শুক্রবার বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনে ওঠার পর তিনবার ট্রেন বদল করেছিলেন বলেও জানান তিনি। শনিবার বিশাখাপত্তনম স্টেশনে নেমেছিলেন— এমন ছবিও পরিবারকে পাঠান।
সন্ধ্যায় খড়্গপুর জিআরপি থানায় পৌঁছন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার কালীতলা এলাকায় তাঁদের বাড়ি। মানারুলের ভাই জিয়াউল শেখ জানান, “চার মাস আগে কাজের জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিল। শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। হঠাৎই বিশাখাপত্তনমের ছবি পাঠায়। পরে বলে বেলদায় নেমেছে। ও একটু অস্থির প্রকৃতির।”
মানারুলের বাবা আজাদ আলি বলেন, “ভুল করেছে। মাথা ঠিক ছিল না।”
খড়্গপুর জিআরপি-র আইসি অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, “ভাইরাল হওয়ার নেশাতেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। ভুল স্বীকার করায় ওকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে পুলিশের তৎপরতায় দ্রুতই রহস্যের জট খুলে যায়। সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রশ্ন— ভাইরাল হওয়ার নেশা কি তবে এতটাই ভয়ঙ্কর?

