ঘাটাল: পুজোর ক’টা দিন শান্তিতে কাটার পর ফের জলভাসীর আতঙ্ক ঘনিয়ে আসছে ঘাটালে। দুর্যোগের ছায়ার সঙ্গে এবার নতুন দুশ্চিন্তা ডিভিসির জল ছাড়াকে কেন্দ্র করে। শনিবার থেকেই দুর্গাপুর ও তিলপাড়া ব্যারাজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়তে শুরু করেছে ডিভিসি। এতে ক্রমশ ফুলে উঠছে শীলাবতী ও রূপনারায়ণ নদী। প্রশাসনের কপালে ভাঁজ ফেলেছে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা।
সেচ দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৭৪ হাজার কিউসেক এবং তিলপাড়া ব্যারাজ থেকে ৯ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর ফলে শীলাবতী ও রূপনারায়ণ নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এমনকি কোঠিয়াখালের জলস্তরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জল ঢুকে পড়েছে ঘাটালের পান্না, মোহনবাগান ও মনসুকা এলাকার একাধিক রাস্তায়।
এরই মধ্যে প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। গত বুধবার থেকে ঘাটাল মহকুমায় পড়েছে প্রায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে জলমগ্ন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে ঘাটাল। রাস্তায় চলেছে নৌকা, বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। অবশেষে পুজোর ঠিক আগে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও উৎসবের সপ্তাহ শেষ না হতেই আবারও বাড়ছে আতঙ্ক।
এদিন ঘাটালের মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস নিজে এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, “অবিরাম বৃষ্টির জেরে নদীগুলির জলস্তর বাড়ছে। তার উপর ডিভিসির জলাধার থেকে জল ছাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।”
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়েক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “চলতি বছর আবারও ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলভাসী হতে চলেছে। ডিভিসির এই জল ছাড়াই পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলতে পারে।”
বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের আশায় দিন গুনছেন ঘাটালের মানুষ। পুজোর আনন্দ যেন আবারও ডুবে যাচ্ছে অজানা আশঙ্কার স্রোতে।

