নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দ্রকোনা : আইনের কঠোর শাসন থাকলেও আজও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়ে গিয়েছে বাল্যবিবাহের মতো ঘৃণ্য প্রথা। এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকে অনুষ্ঠিত হলো একটি বিশেষ বাল্যবিবাহ সচেতনতা শিবির। ‘স্বামী বিবেকানন্দ সেবা সংঘ’-এর পরিচালনায় এবং চন্দ্রকোণার বিশিষ্ট আইনজীবী সমীর কুমার ঘোষের বিশেষ উদ্যোগে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়। স্কুল পড়ুয়া ও অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত এই শিবিরে বাল্যবিবাহের আইনি ও স্বাস্থ্যগত কুফলগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানটিতে বিচার বিভাগীয় একাধিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থেকে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন। উপস্থিত ছিলেন
- মাননীয় ময়ুখ মুখার্জী: অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ঘাটাল মহকুমা আদালত।
- মাননীয় সৌরভ হাজরা: সহকারী সেশন জজ ও সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন)।
- মাননীয় অরিন্দম চক্রবর্তী: এ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
বক্তারা বাল্যবিবাহের আইনি দিকগুলি ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা প্রসারের ওপর জোর দেন।
শিবিরে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল অপরিণত বয়সে বিয়ের ভয়াবহ পরিণাম। বক্তারা জানান, বাল্যবিবাহের ফলে নারীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন। বিশেষ করে অল্প বয়সে গর্ভধারণ মা ও নবজাতক উভয়ের জন্যই প্রাণঘাতী হতে পারে। এর পাশাপাশি বাল্যবিবাহের কারণে পারিবারিক বিচ্ছেদ ও অকাল মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতনতার অভাবে শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেরাও এই প্রথার শিকার হচ্ছে এবং অপরিণত বয়সে সংসারের বোঝা বইতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
স্বামী বিবেকানন্দ সেবা সংঘের সভাপতি, আইনজীবী সমীর কুমার ঘোষ বলেন
“বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অভিশাপ এবং জ্বলন্ত ব্যাধি। শুধু আইন প্রয়োগ করে এই প্রথা বন্ধ করা সম্ভব নয়। পরিবারের মা, মাসি ও দিদিমাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা সবথেকে বেশি প্রয়োজন। সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা ছাত্রছাত্রীদের শপথ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন যাতে তারা নিজেরা এবং প্রতিবেশীরা এই কুপ্রথার শিকার না হয়। এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষানুরাগীরা।

