পশ্চিম মেদিনীপুরের কেলেঘাই নদীর তীরে আজ যেন উৎসবের মেজাজ। ঢাকের বাদ্য, শাঁখের ধ্বনি, মাঠ জুড়ে রঙিন পতাকা — সব মিলিয়ে যেন ছোট্ট এক মেলার আবহ। কালিদহচড়া তপশিলী সেবা সংঘের আয়োজনে শুরু হলো ৫৪তম বর্ষের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার সূচনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া।
এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি খেলা নয় — এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বয়ে চলা আবেগের ধারা। ৭ দিনের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে মোট ৮টি দল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কেলেঘাই নদীর ধারে জ্বলে উঠছে আলো, বাজছে ঢোল, মাঠে নামছে গ্রামের প্রতিভাবান ফুটবলাররা।
উদ্বোধনী দিনে মাঠে উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, ফুটবল এখনও গ্রামীণ বাংলার প্রাণ। গ্রামের প্রবীণ থেকে ছোট ছেলেমেয়েরা — সবাই ভিড় করেছেন মাঠের চারপাশে। মানস ভূঁইয়া বলেন, “এই টুর্নামেন্ট শুধু খেলা নয়, এটা আমাদের সংস্কৃতি। গ্রামের মাটিতে ফুটবলের শিকড়কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
স্থানীয়রা জানান, “এই মাঠে খেলা মানেই আমাদের উৎসব। বছরভর আমরা এই দিনের অপেক্ষায় থাকি।” মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ বললেন, “আগে আমরা খেলতাম, এখন ছেলেমেয়েরা খেলে, কিন্তু আবেগটা ঠিক একই।”
এবারের টুর্নামেন্ট ঘিরে আশেপাশের গ্রামগুলোতে জমে উঠেছে দোকান, হাটবাজার, জমজমাট ব্যবসা। স্থানীয় যুবকরা মাঠের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে টিকিট বিক্রি— সব কিছু নিজেরাই সামলাচ্ছেন।
ফুটবল শুধু খেলার আনন্দ নয়, একতা, পরিশ্রম আর আত্মসম্মানের প্রতীক — তা আবারও প্রমাণ করল কেলেঘাই নদীর পাড়ের কালিদহচড়া।

