খড়্গপুর শহরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি দীপসোনা ঘোষ। ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে জেলা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খড়্গপুর টাউন থানার আইসি পার্থসারথি পালের নেতৃত্বে সুভাষপল্লি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে বিএনএস ৩২৯/৪, ১১৫/২, পকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তীব্রতর। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপি নেতাদের থেকে আর কী-ই বা আশা করা যায়! মহিলাদের সম্মান করতে জানেই না এরা।” অন্যদিকে বিজেপিরই এক অংশ জানাচ্ছে, দীপসোনার বিরুদ্ধে এ প্রথম অভিযোগ নয়। দলেরই এক মহিলা কর্মীর অভিযোগে অতীতেও গ্রেপ্তার হয়েছিল সে। স্থানীয়দের দাবি, ২০১৯-এর পর থেকেই রাজনীতিতে দ্রুত উত্থান ঘটে তার। বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে সামনের সারিতে দেখা যেত তাকে, পরে তিনি হন মণ্ডল সভাপতি।
অভিযোগ, দলীয় সূত্রেই বিবাহিত এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন দীপসোনা। সেই সম্পর্ক থেকেই বিস্ফোরণ—চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ওই মহিলার কন্যা নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয় বিজেপি নেতা।
ঘটনার পর খড়্গপুরের রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত। বিজেপি নেতৃত্ব আপাতত নীরব, আর তৃণমূল স্বাভাবিকভাবেই আক্রমণ শানিয়েছে। পুরো ঘটনাই এখন তদন্তের আওতায়, তবে গ্রেপ্তারি রাজনীতিতে যে নতুন চাপ তৈরি করেছে তা স্পষ্ট।

