হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন। শীতের ভোরে ঘুম ভেঙে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সামনে হাজির হয়েছিলেন শুধুমাত্র একটাই আশায়—লিওনেল মেসিকে নিজের চোখে দেখা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যা ঘটল, তা দেখে স্তম্ভিত ক্রীড়াপ্রেমীরা।নির্ধারিত সময়েই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রডরিগো ডি’পল। মাঠে নামার সময় হাসিমুখে দর্শকদের দিকে হাত নাড়লেও সাধারণ দর্শকদের বড় অংশই তাঁকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি। কারণ, মাঠের একাংশ জুড়ে ভিআইপি ও আয়োজকদের ঘন ভিড়ে কার্যত আড়ালেই থেকে যান মেসি।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে মেসিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ আর মিলবে না, তখনই গ্যালারিতে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। প্রথমে বোতল ছোড়া, পরে ব্যানার ছেঁড়া—ক্রমেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একসময় ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন একাংশ দর্শক। মুহূর্তের মধ্যে যুবভারতী স্টেডিয়াম পরিণত হয় বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রেক্ষুব্ধ
জনতা মাঠে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। প্লেয়ারদের টানেল ও ক্যানোপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করেই নিরাপত্তার কারণে দ্রুত স্টেডিয়াম ছাড়েন লিওনেল মেসি। যুবভারতী থেকে সরাসরি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনিএই
অনুষ্ঠানে মেসির সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে তাঁর যুবভারতী যাওয়ার কর্মসূচিও বাতিল করা হয়।সব মিলিয়ে, প্রিয় ফুটবলারকে একঝলকও না দেখতে পাওয়ার যন্ত্রণা আর ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা দর্শকদের রাগ—এই দুই মিলিয়েই শনিবারের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন স্মরণীয় হয়ে থাকল এক অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য।

