দু’দু’টি ‘বিয়ে’, অথচ মেয়ের বয়স মাত্র ১৬ বছর! দিব্যি সংসার করছিল ওই কিশোরী। ঘুণাক্ষরেও কেউ কিছু টের পায়নি। কিন্তু আচমকা প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরই ফাঁস হল বিস্ফোরক সত্যি — নাবালিকা ওই বধূর রয়েছে এক নয়, দু’জন স্বামী! আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাদের ঠাঁই শ্রীঘরে।
ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে। পুলিশ সূত্রের খবর, দিন পনেরো আগে হাসিমপুরের এক যুবকের সঙ্গে ওই নাবালিকার ‘বিয়ে’ হয়। গোপনে সংসার করছিল তারা। কিন্তু হঠাৎই পুলিশ জানতে পারে, মেয়েটির বয়স ১৮ নয়, মাত্র ১৬। খবর পেয়ে শনিবার কেশিয়াড়ি থানার পুলিশ ও চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসাররা ছুটে যান মেয়েটির বাড়িতে। দেখা যায়, কাগজপত্র অনুযায়ী সে একেবারেই নাবালিকা। থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই বেরিয়ে পড়ে আরও ভয়ানক তথ্য।
নাবালিকা পুলিশের সামনে স্বীকার করে, বছর দুয়েক আগে তার বাবা-মা তাকে বিয়ে দিয়েছিলেন ঝাড়গ্রামের বেলিয়াবেড়ার এক যুবকের সঙ্গে। সে সময় সে ছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। কিন্তু সেই সময় থেকেই সে প্রেম করত হাসিমপুরের বর্তমান ‘স্বামী’-র সঙ্গে। বিয়ের পরেও প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, আর শেষে একদিন সোজা তার কাছেই চলে আসে সে।
সব জেনে প্রথম ‘স্বামী’-কেও আটক করে কেশিয়াড়ি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর দু’জনের বিরুদ্ধেই পকসো ধারায় মামলা রুজু করে গ্রেফতার হয়। এবং রবিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক চোদ্দো দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। নাবালিকাকে পাঠানো হয়েছে হোমে। নেওয়া হয়েছে গোপন জবানবন্দিও।
এই ঘটনায় ফের একবার বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। শুধু এই কিশোরীই নয়, এর আগেও জেলার একাধিক ব্লকে অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাদের খোঁজ মিলেছে। পুষ্টিকর খাবারের জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গেলে খাবার দিতে অস্বীকার করেন কর্মীরা। সেখান থেকেই ফাঁস হয় নাবালিকাদের পরিচয়।
চাইল্ড প্রোটেকশন কমিটি, কন্যাশ্রী ক্লাব, সচেতনতা শিবির — সবই আছে, তবু কেন রোখা যাচ্ছে না বাল্যবিবাহ? প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে।

