মেদিনীপুরের শালবনির এক সাধারণ আদিবাসী গৃহবধূ বিজলী মুর্মু। কখনও টোটো চালিয়ে সংসার চালানো, আবার কখনও প্রতিকূলতাকে জয় করে নাচের সাধনা। এবার—এই পথ ধরেই পৌঁছে যাচ্ছেন আমেরিকার রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে। সেখানে তিনি ১৩টি কলসি মাথায় নিয়ে সাঁওতালি নাচ পরিবেশন করবেন।
অভাব-অনটনের সংসারে বড় হওয়া বিজলীর ছোটবেলায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। কম বয়সে বিয়ে, সংসার, টোটো চালানো—সবই ছিল তাঁর নিত্যদিনের। কিন্তু এর মধ্যেই নাচের প্রতি ভালবাসা। প্রতিদিনের কাজ সামলে নাচের রেওয়াজ চালিয়ে যেতে। সেই লড়াই-ই তাঁকে এনে দিয়েছে আজকের এই বিশাল স্বীকৃতি।
সম্প্রতি, অনলাইনে নিজের নাচের ভিডিও পোস্ট করতে করতেই আমেরিকার এক নামী আন্তর্জাতিক রিয়েলিটি শো-এর আয়োজকদের নজরে পড়েন তিনি। সেখান থেকেই আসে আমন্ত্রণপত্র। বিচারকেরা তাঁর পারফরম্যান্সে অভিভূত হয়ে সরাসরি আমন্ত্রণ জানান আমেরিকার রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে অংশগ্রহণ করার জন্য।
এর আগে রাজ্যপালের হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছেন বিজলী মুর্মু। বাংলাদেশের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাঁওতালি নৃত্যের জন্য প্রশংসাও পেয়েছেন। এই সমস্ত অর্জন তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিজলীর কথায়, “আমি চাই আমাদের সাঁওতালি সংস্কৃতি গোটা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরতে। ছোটবেলায় যা পাইনি, আজ আমার সংস্কৃতির মাধ্যমে সারা বিশ্বের মঞ্চে পৌঁছনো—এটাই আমার গর্ব।”
এই অসাধারণ যাত্রার জন্য ‘দ্যা মেদিনীপুর টাইমস ’ পরিবারের পক্ষ থেকে বিজলী মুর্মুকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

