SIR ইস্যু ঘিরে রাজ্যজুড়ে যখন চাঞ্চল্য, ঠিক তখনই মালদার মানিকচক থেকে উঠে এল এক বিস্ময়কর ঘটনা। ধরমপুর পঞ্চায়েতের ৯৬ নম্বর বুথে একসঙ্গে ৮০০ জন ভোটারের নাম উধাও ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে। অথচ প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে বৈধ ভোটার কার্ড, এবং গত কয়েকটি নির্বাচন— পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা— সবেতেই নিয়মিত ভোট দিয়েছেন তাঁরা।
SIR ফর্ম বিতরণের পর থেকেই ভোটার তালিকার পুরনো নথি ঘেঁটে এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। তালিকায় নিজেদের নাম না দেখে কার্যত স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। বহুজনের চোখে-মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— “আমাদের নাম যদি পুরনো তালিকায় না থাকে, তাহলে কি আমরা আর ভোটার নই?”
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল সামাদ বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে এখানে ভোট দিচ্ছি। আমার বাবার, দাদার নামও ভোটার লিস্টে আছে। এখন হঠাৎ নাম নেই শুনে মাথায় হাত। এ কেমন বিচার?”
আরও এক গ্রামবাসী, রুবিনা বিবি বলেন, “ভোটার কার্ড হাতে আছে, গতবারও ভোট দিয়েছি। কিন্তু এখন সরকারি কাগজে আমার নাম উধাও! বুঝতে পারছি না, এখন কী করব?”
ধরমপুর পঞ্চায়েতের প্রধানও ঘটনাটি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, “গ্রামের প্রায় ৮০০ জনের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই বলে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। দ্রুত প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।”
এদিকে, এই ঘটনা ঘিরে গ্রামজুড়ে এখন প্রবল আতঙ্কের আবহ। অনেকেই ভয়ে রয়েছেন, তাঁদের নাম যদি ‘অবৈধ ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত হয়! কেউ কেউ আবার বলছেন— “আমরা কি এখন বিদেশি হয়ে গেলাম?”
রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, “SIR ইস্যুকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে অকারণ ভয় ঢোকানো হচ্ছে। এই তালিকা পরীক্ষা করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, “এই বিষয়টি প্রশাসনিক গাফিলতির প্রমাণ। আসল নাগরিক কারা— তা যাচাই করতেই এই প্রক্রিয়া শুরু।”
মানিকচক ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুরনো ভোটার তালিকা ও নতুন ভোটার লিস্টের তুলনামূলক যাচাই চলছে। কোন ভিত্তিতে এই নামগুলো বাদ পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এক প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, “২০০২ সালের ভোটার তালিকা পুরনো ডেটা নির্ভর। মাঝের সময়ে ভোটার তালিকা আপডেটের সময়ে হয়তো কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা এখনকার প্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে না। নাগরিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”
তবে এই ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না ধরমপুরের মানুষ। রাতারাতি ৮০০ জন ভোটারের নাম “গায়েব”— এই খবর এখন পাড়ায় পাড়ায় আতঙ্কের প্রতিধ্বনি।
বৃদ্ধ কাদের শেখের কথাতেই যেন গ্রামবাসীদের মনের কথা ধরা পড়ল— “আমরা এ মাটির মানুষ। জন্ম এখানে, মৃত্যু এখানেই হবে। তবু যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে যায়— তাহলে বাঁচব কেমন করে?”

