নন্দীগ্রামে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাজুড়ে ক্ষোভ ঘনীভূত হচ্ছিল বহুদিন ধরেই। অভিযোগ, নন্দীগ্রাম–২ ব্লকের বিরুলিয়া বাজার থেকে নন্দীগ্রাম–১ ব্লকের তেখালি বাজার পর্যন্ত রাস্তা এতটাই বেহাল যে দৈনন্দিন যাতায়াত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। গ্রামবাসীরা বহুবার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও কোনও সুরাহা না মেলায় শেষমেশ রাস্তায় নেমেই ক্ষোভ উগরে দিল বিজেপি।
বুধবার বিজেপির ডাকে আমদাবাদ-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল দাহ, রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভে উথাল–পাথাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সকাল থেকেই রাস্তাজুড়ে জোট বাঁধেন বিজেপি কর্মী–সমর্থকেরা। দাবি একটাই—বেহাল রাস্তা দ্রুত সংস্কার করতে হবে। অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে রাস্তার অবস্থা শোচনীয় হলেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নজর দিচ্ছেন না।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে সরকার উদাসীন। রাস্তার খানাখন্দে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। স্কুল–কলেজের পড়ুয়া থেকে অসুস্থ রোগী—সবাইকে বিপজ্জনক রাস্তা পেরোতে হচ্ছে। সেই ক্ষোভই এদিন বিস্ফোরিত হয় রাস্তা অবরোধের মাধ্যমে।
তবে বিজেপির এই পথ অবরোধকেও হাতছাড়া করতে চায়নি শাসক দল তৃণমূল। তৃণমূল জেলা সভাপতি সুজিত রায় কটাক্ষ ছুড়ে বলেন— “এলাকার বিধায়ক বিজেপি, সাংসদ বিজেপি, জেলা পরিষদ বিজেপির দখলে। এত ক্ষমতা থাকার পরও রাস্তা ঠিক করতে পারেনি তারা। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই আজ অবরোধের নাটক করছে।”
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে নন্দীগ্রামের ১৭ কিলোমিটার রাস্তা এখনও আগের মতোই বেহাল। দু’পক্ষের দোষারোপ–রাজনীতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষই।

