সবংয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো পুরো এলাকায়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের বসন্তপুর ঝাড়েশ্বর বানীভবন স্কুলের হোস্টেল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিল এক মেধাবী ছাত্র। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৎপর সবং থানার পুলিশ উদ্ধার করে ওই ছাত্রকে কলকাতা থেকে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর সকালে ছেলেকে স্কুলের হোস্টেলে দিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। নিয়ম অনুযায়ী হোস্টেলের প্রবেশ খাতায় সই করার কথা থাকলেও, সেই সই না করেই হোস্টেল থেকে বেরিয়ে যায় সে। এরপর টোটো ধরে এগারো মাইল, সেখান থেকে বাসে বালিচক, বালিচক থেকে ট্রেনে হাওড়া এবং পরবর্তীতে চুঁচুড়া লাইন ধরে পৌঁছে যায় শিয়ালদহ। সেখানেই তার গতিবিধি নজরে আসে আরপিএফের। পরে তাঁরা ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে কলকাতার একটি সরকারি হোমে রাখে।
ঘটনার আসল রহস্য সামনে আসে ৮ নভেম্বর। সেই দিন ছেলের শীতের পোশাক দিতে হোস্টেলে যান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু খোঁজ মেলে না ছেলেটির। তখনই পরিবার বুঝতে পারে, ছেলেটি নিখোঁজ হয়েছে। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সবং থানার পুলিশ, এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা থেকে উদ্ধার করে ওই ছাত্রকে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে স্কুল ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। পরিবারের দাবি, “২ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত কেউ খোঁজ নিল না? এত বড় অবহেলা কীভাবে সম্ভব?”
সবং থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্কুল ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এলাকায় এখনো এই রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চর্চা থামেনি। অনেকেই বলছেন, “পুলিশের তৎপরতা না থাকলে হয়তো ছেলেটিকে আর পাওয়া যেত না।”

