মেদিনীপুর: এ যেন এক নামেই লুকিয়ে আছে গোটা গল্প। “হঠাৎ পল্লী”— মেদিনীপুর শহরের তোড়াপাড়া সংলগ্ন একটি বসতি। একসময় যা ছিল ফাঁকা জমি, আজ সেখানে ঘরবাড়ি, স্কুলপড়ুয়া শিশু, ছোট দোকান, গলির মোড়ে চায়ের আড্ডা— কিন্তু সেই হাসি আজ আতঙ্কে ঢেকে গেছে। কারণ, এসআইআর ইস্যু ঘিরে এই পল্লীর বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ এখন এক গভীর প্রশ্নচিহ্নের মুখে।
স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল জানাচ্ছে, এই পুরো এলাকা মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের বসবাসে গড়ে উঠেছে। প্রায় ১৫০ জনের মতো ভোটার ও ৯০টি বাড়ি রয়েছে এই কলোনিতে। সময়টা ছিল নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকে ২০০২-০৩ সাল— দাঙ্গা, আর্থিক অনটন, ধর্মীয় অস্থিরতা— সেই পটভূমিতেই কাঁটাতার পেরিয়ে এই দেশে প্রবেশ করেন বহু মানুষ। কেউ দালালের হাত ধরে, কেউ নিঃস্ব হয়ে নদী পেরিয়ে। কারও কাঁধে সন্তান, কারও হাতে কেবল এক থলি কাপড়। এইভাবেই শুরু হয়েছিল মেদিনীপুরের “হঠাৎ পল্লী”-র জন্মকথা।
পল্লীর ৬৫ বছরের বাসিন্দা রেণু বালা কর বললেন, “তখন বাংলাদেশে দাঙ্গা হচ্ছিল। মেয়েদের ঘর থেকে টেনে নিয়ে যেত। আমরা পালিয়ে এসেছিলাম। এখানে জমি কিনে ঘর বানিয়েছি। এখন আবার নাম কাটা যাবে শুনে ভয়ে ঘুম আসে না।” ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় প্রায় কারও নামই নেই— সেটাই আজ তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয়। কারণ, এসআইআর যাচাইয়ের ভিত্তি সেই তালিকা। অর্থাৎ, তালিকায় নাম না থাকলে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’-র তকমা জুড়ে যেতে পারে তাঁদের কপালে।
তবে, কাউন্সিলর অনিমা সাহা আশ্বস্ত করেছেন স্থানীয়দের। তাঁর কথায়, “এই জায়গাটা একসময় ফাঁকা জমি ছিল। পরে কম দামে জমি পেয়ে অনেকেই বাড়ি তৈরি করেন। ওরা দীর্ঘদিন এখানে আছেন, ভোট দিয়েছেন, আধারও আছে। আতঙ্কের কিছু নেই।”
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা শহর মণ্ডল ১-এর সাধারণ সম্পাদক গোকুল আচার্য বলেন, “এই এলাকার প্রায় সবাই বাংলাদেশি। আমরা ওদের আশ্বস্ত করেছি— কেউ যদি সত্যিই এখানে আশ্রয় নিয়ে থাকে, তারা সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেতে পারে। প্রয়োজনে এখানে সিএএ ক্যাম্পও হবে।”

