OBC Certificate ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে এবার কড়া ও স্পষ্ট নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০১০ সালের পর ইস্যু হওয়া কোনও OBC সার্টিফিকেট এসআইআর শুনানিতে গ্রহণ করা হবে না। শুধু তাই নয়, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে যেসব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে, সেগুলি কোনওভাবেই এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত ইস্যু হওয়া সমস্ত OBC সার্টিফিকেট কলকাতা হাইকোর্ট বাতিল করেছিল। সেই আদালতের রায় মেনেই এসআইআর শুনানিতে ওই সার্টিফিকেটগুলি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কমিশন জানিয়েছে যে ২০২৫ সালের ১২ জুন রাজ্য সরকারের প্রকাশিত নতুন OBC তালিকাই শুধুমাত্র এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতর সূত্রে খবর, এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলা শাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে— বাতিল হওয়া OBC সার্টিফিকেট কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, শুনানির সময় কেবল বৈধ ও আদালতসম্মত নথিই বিবেচিত হবে।
কী বলেছিল হাইকোর্ট?
২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ২০১০-এর পর ইস্যু হওয়া সমস্ত OBC সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে। OBC তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক সেই সমীক্ষা ছাড়াই বহু জনগোষ্ঠীকে OBC তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এই কারণেই পুরনো তালিকা বাতিল করে নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।
কতগুলি জনগোষ্ঠী ছিল?
হাইকোর্টের নথি অনুযায়ী—
- ২০১০ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গে ৬৬টি জনগোষ্ঠী OBC হিসেবে স্বীকৃত ছিল
- বাম আমলে যুক্ত হয় আরও ৪২টি জনগোষ্ঠী
- তৃণমূল সরকারের আমলে যুক্ত হয় ৩৫টি জনগোষ্ঠী
তবে এই পরবর্তী সংযোজনের ভিত্তিতে ইস্যু হওয়া সার্টিফিকেটই বাতিল করে দিয়েছিল আদালত। সেই কারণেই এবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় সেগুলি গ্রহণ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই নির্দেশ রাজ্য রাজনীতিতে এবং প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

