অমিত খিলাড়ি, ডেবরা: কেউ ছাগল বিক্রি করে, তো কেউ জমি বেচে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় পোস্ট অফিসে জমা করেছিলেন। কিন্তু সেই পোস্ট অফিসেই ঘটেছে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক তছরুপ। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রায় চার ঘন্টারও বেশি সময় ধরে পোস্টমাস্টারকে ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রাহকরা।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের ৬ নম্বর জালিমান্দা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইতল পোস্ট অফিসে।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পোস্ট অফিসে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার উপরে আর্থিক তছরুপ হয়েছে। অলিদাজপুর, রামপুরা, সাইতল, চকসাহাপুর, ঘিয়াচক, অন্তলা, খামরা, সিঙ্গারপুর – এই সমস্ত গ্রামের প্রায় ১ হাজারেরও বেশি গ্রাহক এই পোস্ট অফিসে আমানত জমা করেছিলেন।
অন্যদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার নিয়মিত অফিসে আসতেন না। ফলে লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন অফিসের পিয়ন অমল দোলাই।

অভিযোগ অনুযায়ী, পিয়ন অমল দোলাই নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলেও কোনও রকম রশিদ দিতেন না। অনেক সময় গ্রাহকদের পোস্ট অফিসের পাসবুকও নিজের কাছেই রেখে দিতেন তিনি। এমনকি টাকা জমা দিতে কিংবা তুলতে গেলে তিনি বলতেন, “ম্যাডাম নেই, পরে এসে বই ও রশিদ নিয়ে যাবেন।” এইভাবে দিনের পর দিন চলছিল লেনদেন।
আরো পড়ুন- জমা জলে সাপের উপদ্রব, পাঁশকুড়ায় বিষধর সাপে কামড়ে মৃত্যু চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের
এরপর কয়েকজন গ্রাহক যখন নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে যান, তখন বারবার ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা মাদপুর হেড পোস্ট অফিসে গিয়ে নিজেদের অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট চেক করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। দেখা যায়, যে টাকা তারা পোস্ট অফিসে জমা দিয়েছেন, সেই পরিমাণ টাকা অ্যাকাউন্টে নেই।
কিছু গ্রাহকের বইতে টাকা জমা দেখানো হলেও, হেড অফিসে সেই টাকা জমা পড়েনি। অর্থাৎ পাসবুকে টাকার অঙ্ক বসিয়ে দেওয়া হলেও, ব্যাংকিং সিস্টেমে সেই টাকা ঢোকেনি।

এই ঘটনা সামনে আসতেই সোমবার সকাল থেকে সাইতল পোস্ট অফিসে ভিড় জমাতে শুরু করেন গ্রাহকরা। ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে পোস্ট অফিসের ভিতরে পোস্টমাস্টারকে ঘিরে রেখে চলতে থাকে বিক্ষোভ।
সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত চলেছে এই বিক্ষোভ। গ্রাহকদের সাফ কথা,“ কেউ ছাগল বেচে, তো কেউ জমি বিক্রি করে পোস্ট অফিসে টাকা রেখেছিলেন। আজ সেই টাকাই উধাও! যতক্ষণ না আমাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে এবং মূল অভিযুক্ত অমল দোলাইকে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে।” follow us

