টানা বৃষ্টির জেরে জমে থাকা জল যেন কাল হয়ে দাঁড়াল পাঁশকুড়ার এক ছাত্রের জীবনে। পূর্ব মেদিনীপুরের গোবিন্দনগর অঞ্চলের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে বিষধর সাপে কামড়ে মৃত্যু হল চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া (১৩)। ঘটনা ছড়াতেই শোকের ছায়া গোটা গ্রামে।
জানা গিয়েছে, স্কুল থেকে ফিরে নিজের ঘরেই খেলছিল শুভেন্দু। আর সেই সময় হঠাৎই তাকে কামড় দেয় একটি বিষধর সাপ। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের লোকেরা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সেই ছোট্ট প্রাণটি।
এমনকি এই পরিবারেই এক মাস আগে বিষধর সাপ কামড়েছিল মৃতার ঠাকুমাকেও। তবে সেবার প্রাণে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু এবার শেষ রক্ষা হয়নি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ, বেশ কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির ফলে গোটা গ্রামই প্রায় জলমগ্ন। ফলে বাড়ির উঠোন, রাস্তা—সবই হাঁটু সমান জলে ডুবে। সেই জলের জন্যই ঘরের মধ্যে আশ্রয় নিচ্ছে বিষধর সাপেরা। কার্যত সাপের সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামের মানুষজন। অথচ পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার জানালেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
আরো এলাকাবাসীর অভিযোগ, “জল নিকাশির কোনও ব্যবস্থা নেই। বছরের পর বছর ধরে জল জমে থাকে। আমরা আতঙ্কে থাকি—কখন আবার কার ঘরে সাপ ঢুকে পড়ে। এখন একটা ছেলেকে হারালাম। এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?”
এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবার-পরিজন। আর এলাকার মানুষ জোর গলায় বলছেন, “ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকলেই এমন হবে। আজ শুভেন্দু, কাল হয়তো আরও কেউ!” এখন গ্রামবাসীদের একটাই দাবি—জল নিকাশির ব্যবস্থা হোক অবিলম্বে। তাহলে অন্তত সাপের উপদ্রব থেকে রেহাই মিলবে।

