তমলুক: আগামীকাল কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র তিথি। কথিত আছে, এই তিথিতেই তারাপীঠে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। সেই কারণেই ভক্তদের কাছে কৌশিকী অমাবস্যার মাহাত্ম্য বিশেষ। তমলুকের দেবী বর্গভীমা মন্দিরও এই উপলক্ষ্যে ভক্তদের অন্যতম আকর্ষণ। কথিত আছে দেবীর বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল এই মন্দিরে, যা ৫১ সতীপীঠের একটি। স্বয়ং বিশ্বকর্মা নাকি নির্মাণ করেছিলেন এই মন্দির।
জনশ্রুতি রয়েছে, তমলুকের রাজা তাম্রদ্ধজ প্রতিদিন শোল মাছ খেতেন। আর তার রাজ আদেশে প্রতিদিন রাজ পরিবারে জ্যান্ত শোল মাছ পৌঁছে দিতেন এক দরিদ্র ধীবরপত্নী। এতদিন ধরে কীভাবে তিনি জ্যান্ত মাছের জোগান দিচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল জাগে রাজার মনে। অবশেষে রাজা চেপে ধরতেই ফাঁস হয় গোপন রহস্য। ধীবরপত্নী জানান, জঙ্গলে ঘেরা এক কূপের জল ছিটিয়ে মৃত শোল মাছকে তিনি জীবিত করে তুলতেন। বিষয়টি জানতে রাজা নিজে সেখানে যান এবং দেখেন, সেই কূপের পাশে উগ্রতারারূপী দেবী বর্গভীমার মূর্তি। এরপরই তিনি সেখানেই মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই মন্দিরে কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। মন্দিরের পূজারী পুষ্পেন্দু চক্রবর্তী জানান, আগামীকাল সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে শুরু হবে অমাবস্যা তিথি। সকালে শুরু হবে মায়ের নিত্যপূজা। নিত্যপূজা শেষে অমাবস্যা শুরু হলে অনুষ্ঠিত হবে মায়ের অঙ্গরাগ। অঙ্গরাগের পর দেবীকে নিবেদন করা হবে সাত পদ বিশিষ্ট বিশেষ ভোগ।
তারপর পূজা শেষে সন্ধ্যায় শুরু হবে বিশেষ যজ্ঞ। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমান এই মন্দিরে। তাই আগামীকালও প্রচুর ভক্তসমাগম হবে, তা বলাই বাহুল্য। ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য মন্দির প্রাঙ্গণে বসানো হয়েছে ২২টি সিসিটিভি ক্যামেরা, পাশাপাশি থাকবে নিরাপত্তারক্ষীরাও। প্রতিদিনের মতো ভক্তদের জন্য থাকছে ভোগের ব্যবস্থাও।

