পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর ২ নম্বর ব্লকের চাঙ্গুয়াল অঞ্চলে শুক্রবার বিকেলে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের রূপ নেয় বৈঠক। মারপিট, ধস্তাধস্তি, এমনকি জামা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে প্রকাশ্যে — যা এক কথায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
এদিন বিকেলে চাঙ্গুয়াল অঞ্চল অফিসে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জেনারেল বডি মিটিং। মিটিং শুরু হওয়ার আগেই উত্তেজনা ছড়ায়। সূত্রের খবর, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা সুজাতা দে অভিযোগ করেন যে, “আমার এলাকায় উন্নয়নের কাজ হচ্ছে না। কাজের হিসেব চাইলেই দলীয় প্রধান আমাকে অপমান করছেন।” সুজাতার দাবি, তিনি শুধু উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্নেই নাকি ক্ষিপ্ত হন প্রধান। অভিযোগ, প্রধান তাঁকে মারধর করেন, এমনকি গায়ে কালি ছিটিয়ে দেন।
এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলের মহিলা সদস্যারা। তাঁরা অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা অফিসের ভিতরে ঢুকে পড়েন। অঞ্চল প্রধান দীপালী সিং–এর অভিযোগ, “আমাকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এমনকি জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়।”
ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খড়গপুর ২ নম্বর ব্লকের পুলিশ বাহিনী ও ব্লকের জয়েন্ট বিডিও। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে স্থানীয়দের দাবি— “এই ঘটনা আসলে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতার লড়াই এখন নিচুতলার সভা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।”
অঞ্চল অফিসে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, উন্নয়নের টাকা ও প্রকল্পের বন্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। পঞ্চায়েত সদস্যারা অভিযোগ করেছেন, “কাজের হিসেব না দেওয়া, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও অস্বচ্ছতা” এখন নিয়মে দাঁড়িয়েছে।
অপরদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পঞ্চায়েত ভোটে বিপুল জয়ের পরেও এই ধরনের সংঘাত তৃণমূলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে যখন রাজ্য সরকার নিজেই কড়া বার্তা দিচ্ছে, তখন ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রশাসনিক পরিসরে বিব্রতকর চিত্র তুলে ধরছে।
ঘটনার পর জয়েন্ট বিডিও সাংবাদিকদের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এই ঘটনায় শুধু ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে ‘কাজের ভাগাভাগি’ ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের টানাপোড়েনই সামনে এসেছে।”
ফলে প্রশ্ন উঠছে— উন্নয়নের মঞ্চে দাঁড়িয়েও যদি শাসকদলের দুই পক্ষ এইভাবে পরস্পরের উপর হামলে পড়ে, তবে জনসাধারণের কাজ কতটা হবে? উত্তর খুঁজছে চাঙ্গুয়াল।

