ডেবরা: অলৌকিক আশ্বাসে ভরসা রেখেছিলেন। সংসারের ভাঙন, মানসিক বিপর্যয়—সব কিছুর উত্তর খুঁজেছিলেন তান্ত্রিকের কাছে। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে সেই তান্ত্রিকই আজ রক্তাক্ত হাসপাতালে, আর আশাহত ব্যক্তি এখন শ্রীঘরে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা থানার খাসবাজার এলাকায় বুধবার সকালে ঘটে গেল এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় উজ্জ্বল সামন্ত নামে এক ব্যক্তি তান্ত্রিকের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে আঘাত করেন, যার জেরে গুরুতর জখম হন ওই তান্ত্রিক।
তদন্তে উঠে এসেছে, ডেবরার পাঁচগেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল সামন্তের জীবনে গত কয়েক বছর ধরে নেমেছিল অস্থিরতা। দুই বছর আগে স্ত্রী সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। জীবনের নানা সমস্যার সমাধান খুঁজতে তিনি দারস্ত হন এক তান্ত্রিকের কাছে।
অভিযোগ, সেই তান্ত্রিক প্রায়শই ‘সমস্যার সমাধান হবে’ এই আশ্বাসে উজ্জ্বলবাবুর কাছ থেকে একাধিকবার মোটা অঙ্কের টাকা নেন। কিন্তু বাস্তবে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ জমতে থাকে তাঁর মনে। অবশেষে বুধবার সকালে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। রাগের মাথায় খাসবাজারের ওই তান্ত্রিকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন উজ্জ্বলবাবু।
তান্ত্রিকের আর্তনাদ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। অভিযুক্তকে তারা ধরে গাছে বেঁধে রাখেন এবং খবর দেন ডেবরা থানায়। পুলিশ এসে উজ্জ্বল সামন্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। আহত তান্ত্রিককে দ্রুত ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার অভিযোগেরও ইঙ্গিত মিলেছে। উজ্জ্বল সামন্ত দীর্ঘদিন ধরেই তান্ত্রিকের মায়াজালে জড়িয়ে পড়ে ছিলেন। মানসিক অবসাদ ও আর্থিক ক্ষতির জেরেই এই আক্রমণ বলে প্রাথমিক অনুমান। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “অভিযুক্ত মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। তান্ত্রিকের প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে ছিলেন। ঘটনাটি আকস্মিক রাগের বহিঃপ্রকাশ।” বৃহস্পতিবার ধৃতকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

