সবংয়ের নাকিন্দী গ্রামে হঠাৎই তৈরি হয়েছে রহস্য আর আতঙ্কের পরিবেশ। শান্ত ধানজমির বুক চিরে আচমকা তীব্র বেগে জল বেরোতে শুরু করতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। দুপুরের দিকে প্রথম এই ঘটনা নজরে আসে গ্রামবাসীদের। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, দলে দলে মানুষ ছুটে আসেন মাঠের মাঝে অদ্ভুত এই দৃশ্য দেখতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানখেতের একাংশে হঠাৎ মাটি ফেটে জল উথলে ওঠে। প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক জলজমা বলেই ধরে নেওয়া হলেও, জল বেরোনোর তীব্রতা বাড়তেই সন্দেহ দানা বাঁধে। কৌতূহল সামলাতে না পেরে গ্রামের কয়েকজন যুবক কোদাল নিয়ে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন। কিছুটা গভীরে খোঁড়ার পর কোদালের সঙ্গে শক্ত কিছুর ধাক্কা লাগতেই শুরু হয় গুজব—মাটির নিচে নাকি শিবলিঙ্গ রয়েছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় আরও বাড়ে। কেউ ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে পুজো শুরু করেন, কেউ আবার অলৌকিক ঘটনার দাবি তোলেন। প্রায় মানুষের সমান গভীর গর্ত খোঁড়া হলেও কোনও শিবলিঙ্গের দেখা মেলেনি। তবুও বিশ্বাসের জায়গা থেকে অনেকের দাবি, মাটির নিচে দেবতার অস্তিত্ব রয়েছে।
তবে এই ঘটনার পিছনে কোনও অলৌকিকতা নেই বলেই মত স্থানীয় অভিজ্ঞদের একাংশের। দীর্ঘদিন ধরে মিনিডিপ বসানোর কাজের সঙ্গে যুক্ত মধুসূদন দাস জানান, মাটির নিচে থাকা জলস্তরে হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় জল উপরের দিকে উঠে এসেছে। তাঁর মতে, প্রায় ২০ ফুট গভীরে থাকা জলস্তরের চাপই এই ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।
একই সুর শোনা যায় স্থানীয় ভূগোল শিক্ষকের কণ্ঠেও। তিনি জানান, জল বেরোনোর সময় যে বুদবুদ দেখা যাচ্ছে, তা মাটির নিচে জমে থাকা গ্যাসের চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ONGC বা ভূ-বিজ্ঞানীদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর কথাও উঠেছে।
ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্কিত নাকিন্দী গ্রামের বাসিন্দারা। অনেকের মনে প্রশ্ন—এই জলস্রোত কি কোনও বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস? নাকি নিছকই ভূগর্ভস্থ পরিবর্তনের ফল? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বৈজ্ঞানিক তদন্তের দাবি উঠেছে গ্রামবাসীদের তরফে। রহস্যের এই জলের উৎস ঘিরে আপাতত কৌতূহল, বিশ্বাস আর আশঙ্কার দোলাচলে দিন কাটছে নাকিন্দী গ্রামের।

