মায়ের জীবন বাঁচাতে ৪ কিলোমিটার দণ্ডি ছেলের! ৭০০ বছরের পুরনো কেদার চপলেশ্বর জিউ মন্দিরে অটুট বিশ্বাসের ছবিআজকের দিনেও মায়ের প্রতি ছেলের এমন ভালোবাসা আর ভগবানের ওপর অগাধ বিশ্বাসের ছবি সত্যিই সবার মন ছুঁয়ে যায়।
আশি বছরের বৃদ্ধা মা বীণাপাণি মাহাতো বেশ কিছুদিন ধরে খুব অসুস্থ ছিলেন। মাকে সুস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ৪৫ বছরের ছেলে কৃপাসিন্ধু মাহাতো। শেষমেশ তিনি মায়ের আরোগ্য চেয়ে মানত করেন ঐতিহাসিক কেদার চপলেশ্বর জিউ মন্দিরে। আর আশ্চর্যভাবে তারপরই তাঁর মা ধীরে ধীরে একদম সুস্থ হয়ে ওঠেন।
মানত পূর্ণ হওয়ায় এবার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে এক কঠিন সংকল্প নিলেন কৃপাসিন্ধু। রসিক নগরের নিজের বাড়ি থেকে টানা ৪ কিলোমিটার রাস্তা বুক ঘষে দণ্ডি কাটতে কাটতে তিনি এগিয়ে চললেন ওই শিব মন্দিরের দিকে। রোদে পুড়ে, ধুলো মেখে এই কষ্টকর যাত্রায় তাঁকে সাহস জোগাতে সাথে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক প্রতিবেশী।
জানিয়ে রাখি, এই কেদার চপলেশ্বর জিউ মন্দির কিন্তু কোনো সাধারণ মন্দির নয়, এর বয়স প্রায় ৭০০ বছর। মানুষের মুখে মুখে ঘোরে এই জাগ্রত মন্দিরের নাম। এলাকার মানুষের অগাধ বিশ্বাস, এই মন্দিরে যে কেউ মন থেকে কিছু মানত করলে মহাদেব কাউকেই খালি হাতে ফেরান না। যুগ যুগ ধরে অসংখ্য মানুষের মনস্কামনা পূরণ করে আসছে এই প্রাচীন মন্দির। আর কৃপাসিন্ধু মাহাতোর এই মাতৃভক্তি আর চার কিলোমিটার দণ্ডি কাটার দৃশ্য যেন মানুষের সেই পুরনো বিশ্বাসকেই আরও একবার সবার সামনে সত্যি প্রমাণ করল।

