আবেগ, প্রতিবাদ আর লড়াই—এই তিনকে সঙ্গী করেই ভোটের ময়দানে নামলেন আরজি করের (Rg kar) নির্যাতিতার মা। Bharatiya Janata Party-র প্রার্থী হিসেবে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দিলেন তিনি। পাশে ছিলেন তাঁর স্বামী এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা।
এদিন সকাল থেকেই পানিহাটির অমরাবতী এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। সেখান থেকেই মিছিল শুরু হয়। সোদপুর ট্রাফিক মোড় হয়ে ব্যারাকপুরের দিকে এগিয়ে যায় সেই মিছিল। পরে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থী।
এই দিনটি তাঁর কাছে শুধুই রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিন নয়, ব্যক্তিগত আবেগেও ভরপুর। ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট মেয়েকে হারানোর স্মৃতি এখনও তাজা। আবার এই একই দিন তাঁর মেয়ের জন্মদিনও। তাই প্রতীকী গুরুত্ব দিয়েই এই দিনটিকেই মনোনয়ন জমার জন্য বেছে নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই দিনটা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এই দিনেই আমার মেয়ের জন্ম, আবার এই দিনেই ওকে হারানোর যন্ত্রণা।”
মনোনয়ন জমার আগে সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে একটি জনসভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন Smriti Irani এবং Biplab Kumar Deb। সভামঞ্চ থেকে প্রার্থী আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “জিতব আমিই। এই জয় শুধু আমার নয়, পানিহাটির মানুষের জয়, গোটা বাংলার জয়।”
তিনি আরও বলেন, মেয়ের স্মৃতিই তাঁকে প্রতিদিন নতুন করে শক্তি জোগায়। “সন্তান হারানোর যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু সেই কষ্টকেই শক্তি করে এগোতে চাই,”—বলেন তিনি।
পানিহাটির সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ভোটে জিতে বিধায়ক হলে এলাকার সমস্যাগুলি তুলে ধরবেন প্রশাসনের কাছে এবং মানুষের পাশে থাকবেন সবসময়।
এই প্রার্থিতা শুধু একটি রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং ব্যক্তিগত শোক থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ন্যায় ও প্রতিবাদের এক প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

