মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে এক ভয়ংকর যৌন নির্যাতন চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। নাবালিকাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে যৌন হেনস্থা, সেই মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেল—এমনই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদ আয়াজ ওরফে তানভীর নামে এক যুবককে। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নাবালিকা মেয়েদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলত। পরে তাদের মুম্বই ও পুনের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করত এবং সেই সমস্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে মোবাইলে রেকর্ড করত। তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল সে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ৩৫০-র বেশি আপত্তিকর ভিডিও। অভিযোগ, প্রায় ১৮০ জন নাবালিকা এই চক্রের শিকার হয়েছে। এই ভিডিওগুলিকে হাতিয়ার করে মেয়েদের ব্ল্যাকমেল করা হত এবং অনেক ক্ষেত্রে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হত বলেও দাবি তদন্তকারীদের।
জেরায় ধৃত জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে টার্গেট বেছে নিত সে। এরপর ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ফাঁদে ফেলত। কিছু ভিডিও অনলাইনেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে। রাজ্যসভার সাংসদ Anil Bonde বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে অভিযোগ জানান। এরপরই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, আয়াজ আগে AIMIM-এর স্থানীয় এক পদাধিকারী হিসেবে যুক্ত ছিল। যদিও ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তার সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক পোস্ট মুছে দেওয়া হয়েছে।
আদালত ধৃতকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না এবং কোনও বড় চক্র এর পেছনে কাজ করছে কি না।
সাইবার সেলও সক্রিয় হয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলির উৎস, কারা সেগুলি পেয়েছে এবং আরও কোথাও তা ছড়িয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

