নিজস্ব সংবাদদাতা: সিনেমা বা কমিকসের পাতায় নয়, বাস্তবের মাটিতেই এবার দেখা মিলল এক সত্যিকারের ‘হিরো’-র। মুখে এক বিশেষ ধরনের মাস্ক বা মুখোশ, কাঁধে একটি বড় সাদা বস্তা— আর এই বেশেই তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন সবংয়ের আনাচে-কানাচে। নাম নেই, পরিচয় নেই, প্রচারের কোনো মোহ নেই; নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে তিনি নীরবে করে চলেছেন এক মহৎ কাজ। সবং হাসপাতাল চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যাবতীয় আবর্জনা নিজের কাঁধের বস্তায় কুড়িয়ে নিচ্ছেন এই অচেনা যুবক।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই নিঃস্বার্থ কাজের ছবিগুলি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। কে এই যুবক, তা কেউ না জানলেও, তাঁর এই কাজ এখন গোটা সবংবাসীর কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা। কোনো পদ বা ক্ষমতার তোয়াক্কা না করে, নেহাৎ নিজের তাগিদেই সমাজের জঞ্জাল সাফ করতে রাস্তায় নামা এই যুবককে ভালোবেসে নেটিজেনরা বাস্তবের ‘হিরো’ তকমা দিয়েছেন।
এই অচেনা যুবকের কাজ যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সমাজের ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের এক রূঢ় বাস্তবকে। দীর্ঘদিন ধরেই সবং হাসপাতাল চত্বরের অপরিচ্ছন্নতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ ছিল সাধারণ মানুষের মনে। নোংরা-আবর্জনার স্তূপে রোগীদের নাকাল হওয়ার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে একাধিকবার। কিন্তু যেখানে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেও হাসপাতাল চত্বরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন এবং হাসপাতালের কর্মীরা, সেখানেই একার হাতে এই অসাধ্য সাধন করে চলেছেন এই যুবক।
অনেকেই তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে করলেও, তাঁর এই কর্মকাণ্ড প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার দিকেই কড়া আঙুল তুলছে। যাদের কাজ করার কথা তারা যখন হাত গুটিয়ে বসে আছে, তখন এই পরিচয়হীন মানুষটিই যেন সমাজের আয়না হয়ে উঠেছেন।
প্রশাসন যা পারেনি, কোনো অভিযোগ বা পারিশ্রমিক ছাড়াই একা হাতে সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন এই অচেনা ‘মাস্ক-ম্যান



