Seuli Saha: রাজনৈতিক শিবির বদলের পরও কি স্বস্তিতে নেই কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা? নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে যেতে না পারা এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েও কোনও সমাধান মেলেনি। এমনকি বিজেপির একাংশের কাছেও সাহায্য চেয়েছিলেন বলে দাবি শিউলির। কিন্তু তাঁর কথায়, “কেউ কথা রাখেনি।”
শিউলি সাহাকে ঠিক কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং কারা সেই প্রতিশ্রুতি রাখেননি, তা স্পষ্ট করেননি বিধায়ক। তবে তাঁর বক্তব্যে প্রশাসনের ভূমিকা এবং নিজের রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। নিরাপত্তার অভাবের কারণেই নিজের কেন্দ্র কেশপুরে যেতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিধায়কের বক্তব্য, এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে চাইলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন তিনি। শিউলির দাবি, বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের জানিয়েছেন। তাতেও কোনও কার্যকর সমাধান হয়নি। তাঁর কথায়, “সব বাউন্ডারি পার করে, বিজেপি নেতাদেরও বলেছি। তারপরও যেতে পারিনি।”
এই ক্ষোভের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা স্পষ্ট করেছেন কেশপুরের বিধায়ক। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। তাঁর প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।” তবে কালীঘাটে গিয়ে বিজয়ার প্রণাম জানানোর পরিস্থিতি নেই বলে দাবি করেছেন শিউলি। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি একই রাজনৈতিক শিবিরের বিধায়ক মদন মিত্রও নিজের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এবার শিউলি সাহার বক্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজের এলাকায় যেতে না পারা, নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রশাসনের কাছে বারবার জানিয়েও সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তাঁর বক্তব্যে দলের অন্দরের অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে।
তবে শিউলি সাহার অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন বা বিজেপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর অভিযোগ এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার বিষয়টি তাঁর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। এখন নজর, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে যাওয়া এবং এলাকার মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনও সমাধান পান কি না।





