রোমান্স: নগরীর ব্যস্ত রাস্তায় মোটরবাইক যেন প্রেমের ‘ফিল্ম সেট’। চালকের আসনে প্রেমিক, ট্যাঙ্কের উপর মুখোমুখি বসে প্রেমিকা— দু’জনের মধ্যেকার খোশগল্পে যেন হারিয়ে গেছে নিরাপত্তাবোধ। সিগন্যাল লাল, তারা গল্পে ব্যস্ত। সিগন্যাল সবুজ হতেই বাইক ছুটে চলেছে, কিন্তু অবস্থান একই! এই দৃশ্যই এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ভিডিওটি প্রথমে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট হয়, পরে ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক ও এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ। দেখা যাচ্ছে, কলকাতার এক ব্যস্ত মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালের পাশে দাঁড়িয়ে বাইকটি। তার ওপরে বসে থাকা তরুণ-তরুণীর এই বসার ভঙ্গি যেন বিপদের দাওয়াত। মেয়েটি বাইকের তেলের ট্যাঙ্কে মুখ করে বসে আছে চালকের দিকে। পরনে গোলাপি কুর্তি, পা দুটি চালকের পায়ের উপর রাখা। প্রেমিকের মুখে হাসি, মেয়ের হাতে মোবাইল। মুহূর্তে চারপাশের গাড়িচালকদেরও নজর কাড়ে এই দৃশ্য।
সিগন্যাল সবুজ হতেই প্রেমিক বাইক চালু করেন। মেয়েটি ট্যাঙ্কের উপর বসেই তাঁকে জড়িয়ে ধরে। এবং ঠিক সেইভাবেই দু’জন রওনা দেন রাস্তায়। ভিডিওর পেছনে শোনা যায় হর্নের শব্দ আর পথচারীদের বিস্ময়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হতেই কমেন্ট বক্সে কটাক্ষের বন্যা। কেউ লিখেছেন—“সত্যিকারের ভালোবাসা মানে যদি এটাই হয়, তবে ট্রাফিক আইন ভাঙার পুরস্কার পাওয়া উচিত!” আবার কেউ বলছেন, “প্রেম বুঝলাম, কিন্তু হেলমেট না পরে রাস্তায় বেরনো মানে নিজের প্রাণের দাম কতটা কম ভাবা!”
কিছুজন সরাসরি কলকাতা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন—“এরা শুধু নিজের নয়, অন্যের জীবনকেও বিপদে ফেলছে।” ট্রাফিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভিডিও যতটা রোম্যান্টিক মনে হয়, বাস্তবে তা ততটাই বিপজ্জনক। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “তেলের ট্যাঙ্কের উপর বসা মানে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট করা। ছোট্ট একটি ব্রেকও দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে।”
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি সঠিক লোকেশন শনাক্ত করা যায়, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের কাজ তরুণদের মধ্যে ‘ডিজিটাল অ্যাটেনশন’ পাওয়ার প্রবণতারই ফল। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাইরাল হতে চাওয়াই এখন অনেকের কাছে একধরনের রোমাঞ্চ।

