Debra news, অমিত খিলাড়ি: রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছতেই ডেবরায় নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার পরই শুরু হয়েছে ‘কাটমানি’র চাপ। টাকা না দিলে আটকে দেওয়া হবে দ্বিতীয় কিস্তি—এমনই অভিযোগ উঠেছে ডেবরা ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের এক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের ১০/১ ডাঁয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ইসলামপুর এলাকার। রাজ্য সরকারের ঘোষণামাফিক, গৃহনির্মাণের জন্য উপভোক্তাদের মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে ধাপে ধাপে। ইতিমধ্যেই বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রথম দফার টাকা জমা পড়েছে।
অভিযোগ, ইসলামপুর বুথের এক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর স্থানীয় যুব নেতা সেক শহিরুল আলী তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ইলিয়াস খান নামে এক ব্যক্তি বিডিও-র কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, ওই উপভোক্তার কাছ থেকে তিন দফায় মোট ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে পরবর্তী কিস্তি আটকে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
সেক শহিরুল আলী এলাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবেই পরিচিত। তিনি ডেবরা ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা। ফলে এই অভিযোগ সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস অভিযোগ করে বলেন, “নিচুতলায় কাটমানি ছাড়া শাসকদলের কাজ চলে না। গরিবের প্রাপ্য টাকাতেও ভাগ বসানো হচ্ছে।” তাঁর দাবি, ওই বুথে ৯৪ জন উপভোক্তা রয়েছেন এবং আরও অনেকে অভিযোগ জানাতে পারেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুব নেতা। সেক শহিরুল আলীর দাবি, “আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক চক্রান্তের ফল এটা। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি।”
ইতিমধ্যেই ডেবরা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলার বাড়ি প্রকল্প গরিব ও অসহায় মানুষের মাথার উপর স্থায়ী ছাদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু হয়েছে। সেই প্রকল্পকে ঘিরে কাটমানির অভিযোগ উঠায় স্বভাবতই অস্বস্তিতে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। এখন নজর প্রশাসনিক তদন্তের দিকে—অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।

