আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন করে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ এবার তৃণমূলকে সরিয়ে দিতে প্রস্তুত। শিল্পাঞ্চল জুড়ে সিন্ডিকেট রাজ, মাফিয়াদের দাপট এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শাসকদলকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন তিনি।
সভা থেকে মোদীর অভিযোগ, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল একসময় দেশের অন্যতম শিল্পকেন্দ্র হলেও এখন সেখানে তৃণমূলের ‘গুন্ডা’ ও সিন্ডিকেট রাজ দখল করে বসে আছে। তাঁর কথায়, “এখানকার সম্পদ উন্নয়নের কাজে লাগার বদলে লুট হচ্ছে। কয়লা, বালি, জমি—সব ক্ষেত্রেই মাফিয়াদের দাপট চলছে।” খনি অঞ্চলে অবৈধ খননের জেরে মাঝেমধ্যেই ধস নামার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় এই শিল্পাঞ্চলে সাইকেল থেকে রেল, কাগজ থেকে স্টিল—একাধিক শিল্প গড়ে উঠেছিল এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে কাজ করতে আসতেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো—এলাকা থেকে মানুষ কাজের সন্ধানে বাইরে চলে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, গোটা রাজ্যই আজ একই সঙ্কটে ভুগছে।
তবে এই শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা যেমন বার্ন স্ট্যান্ডার্ড বা হিন্দুস্তান কেবলসের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা না পাওয়ায় স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে হতাশাও তৈরি হয়েছে।
সভা থেকে মোদীর জোরালো বার্তা, বাংলায় এবার ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ গড়বেই বিজেপি। তিনি বলেন, “এতদিন আমরা বলেছি সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। কিন্তু বাংলার জন্য আরও একটি কথা—সবকা হিসাব। যারা বাংলাকে লুট করেছে, তাদের প্রত্যেকের হিসাব হবে।”
তাঁর আরও সংযোজন, বাংলায় তৃণমূলের ভয় নয়, বিজেপির ভরসা প্রতিষ্ঠিত হবে। কাটমানি ও মাফিয়াদের রাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসানসোলের এই সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দিল বিজেপি—শিল্পাঞ্চলের ক্ষোভ ও বেকারত্বের ইস্যুকে সামনে রেখেই ভোটের লড়াইয়ে নামতে চাইছে তারা। এখন দেখার, এই বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে।

