পাঁশকুড়ায় ভয়াবহ ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃ. ত্যু হলো ৩৪ বছরের অনির্বান খাঁড়ার। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানার মদনমোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা অনির্বান বিহারে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং–এর কাজে যুক্ত ছিলেন। বাড়িতে রয়েছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা–মা, দাদা ও বৌদি। স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় আপাতত তিনি রয়েছেন বাবার বাড়িতে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে খাওয়া সেরে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ঘুমোতে যান অনির্বান। কিন্তু আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। কাছে–পড়শিদের খবর দেওয়া হলে তারা দরজা ভেঙে ঢুকে যা দেখেন, তাতেই আতঙ্কে শিউরে ওঠেন সবাই।
খাটে সামনের দিকে হেলে বসে থাকা অবস্থায় অনির্বানের দে. হ। ঘরের ইলেকট্রিক বোর্ড থেকে একটি এক্সটেনশন লাগানো, তাতে মোবাইল চার্জার। সেই এক্সটেনশন বোর্ডের তারটাই তাঁর হাতে জড়িয়ে রয়েছে—এবং হাতের অংশটুকু স্পষ্টভাবে পোড়া। প্রথম দেখাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, বিদ্যুতের প্রবাহেই মৃ. ত্যু হয়েছে যুবকের।
অচেতন অবস্থায় তাঁকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় পাঁশকুড়ার পিতপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষার পর ঘোষণা করা হয়—অনির্বান খাঁড়া আর নেই। দে. হ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।
ঘটনার পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে মদনমোহনপুর গ্রামে। হাসিখুশি, পরিশ্রমী অনির্বানের এমন আকস্মিক মৃ. ত্যু. তে বাকরুদ্ধ সবাই। পরিবারের লোকেরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না, রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমোতে গিয়ে আর ফেরেননি অনির্বান।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃ. ত্যু. র ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু মোবাইল চার্জে রেখে হেডফোন বা তার হাতের কাছে রেখে ঘুম—এটাই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ এই অস্বাভাবিক মৃ. ত্যু. র তদন্ত শুরু করেছে।

