তমলুক: অবশেষে পূরণ হতে চলেছে বহু বছরের দাবি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর–কাপাসবেড়িয়া এলাকায় রেল আন্ডারপাস নির্মাণের ওয়ার্ক অর্ডার জারি হয়েছে। সম্প্রতি রেল বাজেটে অনুমোদিত প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই আন্ডারপাস তৈরি হবে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান ঘটবে—এই খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।
তমলুক–নন্দকুমার রেল লাইনের উপর দিয়ে নারায়ণপুর ও গণপতিনগরকে যুক্ত করা এই সংযোগ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর দুঃস্বপ্ন ছিল। না ছিল রেলগেট, না ছিল আন্ডারপাস। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে রেললাইন পারাপার করতে হত। স্থানীয় সূত্রে দাবি, বিগত কয়েক বছরে এই জায়গায় একাধিক দুর্ঘটনায় ১০–১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোগী পরিবহণ থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী—সবাইকে বড় ঘুরপথে যেতে হত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই আন্ডারপাস তৈরি হলে শুধুমাত্র কাপাসবেড়িয়া নয়, আশপাশের একাধিক এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এতদিন ঝুঁকি নিয়েই চলতে হত। আন্ডারপাস হলে অনেক প্রাণ বাঁচবে।”
জানা গেছে, ২০২২ সালের তাম্রলিপ্ত পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শবরী চক্রবর্তী এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি একাধিকবার পুরসভা, জেলা প্রশাসন, সাংসদ ও রেল দফতরের কাছে আবেদন জানান। তাঁর উদ্যোগেই কেন্দ্রীয় স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে দাবি বিজেপির। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের হস্তক্ষেপে প্রকল্পের অনুমোদন মেলে। চলতি বছরের রেল বাজেটে বরাদ্দ হয় অর্থ এবং গত নভেম্বরেই ওয়ার্ক অর্ডার হাতে আসে।
কাউন্সিলর শবরী চক্রবর্তী বলেন, “ভোটের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, অনেক দৌড়ঝাপের পর তা বাস্তবায়নের পথে। আগামী এক মাসের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। সাধারণ মানুষই এর আসল লাভবান হবেন।”
তবে এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। তমলুকের তৃণমূল নেতা দেবরূপ মিদ্য কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপি শুধুমাত্র রাজনৈতিক লাভের জন্য এই প্রকল্পকে সামনে আনছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো সত্ত্বেও তমলুক শহরের আশেপাশের আরও গুরুত্বপূর্ণ রেলগেট—ধারিন্দা–ডহরপুর, তালপুকুর, মানিকতলার মতো জায়গাগুলিতে কোনও ছাড়পত্র মেলেনি। সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রেলগেট জটে আটকে থাকেন।”
তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার বিজেপি অধ্যুষিত এলাকা বলেই এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, রাজনীতি নয়—এই আন্ডারপাস সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার প্রয়োজন থেকেই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার শেষে আন্ডারপাস নির্মাণের খবরে তমলুকের কাপাসবেড়িয়া এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও, প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আপাতত থামার লক্ষণ নেই।

