তমলুক পৌরসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল কলকাতা হাইকোর্টের রায়। তাম্রলিপ্ত পুরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চঞ্চল খাড়ার নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি আর এই মুহূর্ত থেকে চেয়ারম্যান নন এবং আগামী এক মাসের মধ্যেই কাউন্সিলরদের ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ নভেম্বর। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশে তৎকালীন পুরপ্রধান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় পদত্যাগ করেন। তার পর ১৮ নভেম্বর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল খাড়াকে অস্থায়ীভাবে পুরপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী, অস্থায়ী চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলে এক মাসের মধ্যে পুরবোর্ডের বৈঠক ডেকে স্থায়ী চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, সেই বৈঠকের নোটিস কমপক্ষে সাত দিন আগে সমস্ত পুরপ্রতিনিধিকে জানাতে হয়।
কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও তমলুক পুরসভায় সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুলে তৃণমূলেরই এক কাউন্সিলর পার্থসারথি মাইতি এবং বিজেপির দুই কাউন্সিলর আলাদা আলাদা ভাবে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার শুনানির পর মঙ্গলবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, চেয়ারম্যান হিসেবে চঞ্চল খাড়ার নিয়োগ আইনসিদ্ধ নয়।
আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে তৃণমূলের বহিষ্কৃত কাউন্সিলর পার্থসারথি মাইতি বলেন, “যিনি জেলা সভাপতি, তিনিও আইনের তোয়াক্কা করেন না। টাকা দিয়ে অনেক কিছু কেনা গেলেও আইন কেনা যায় না। আজ আইনের জয় হয়েছে।” বিজেপির তমলুক পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়া দাস নায়েক বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অবৈধ ভাবে চেয়ার আঁকড়ে বসেছিলেন। নিয়ম মানা হচ্ছিল না বলেই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আদালত রায় দিয়েছে। কিন্তু তারপরেও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ‘হ্যালো চেয়ারম্যান’ বলে অনুষ্ঠান করে বেড়ানো হচ্ছে, এটা চরম ঔদ্ধত্য।”
এই রায়ের পরেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও চঞ্চল খাড়া পৌরসভার বিভিন্ন পরিষেবা ও প্রকল্পের উদ্বোধনে অংশ নিচ্ছেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে চঞ্চল খাড়া বলেন, “বিজেপির গায়ে জ্বালা ধরেছে বলেই তারা হাইকোর্টে গেছে। আমি দলের নির্দেশ অনুযায়ী চেয়ারে বসেছি। দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর তমলুক পৌরসভায় এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন হয় কি না এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।

