Chandrakona News: ফলন ভালো। জমি ভরেছে আলুতে। কিন্তু বাজারে নেই সেই দাম। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় জলদি বা পোখরাজ আলু চাষ করে এখন কার্যত লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
চন্দ্রকোণা দীর্ঘদিন ধরেই জেলার অন্যতম আলুচাষের গড় হিসেবে পরিচিত। এখানকার সীতানগর, ঢলবাঁধ, ফাঁসিডাঙা, পিয়ারডাঙা, বাচকা–সহ একাধিক এলাকায় বিঘের পর বিঘে জমিতে চাষ হয়েছে জলদি আলু। এই আলু সাধারণত ভিন রাজ্যে রপ্তানি হয়, ফলে পাইকারি বাজারে ভালো দাম মেলে—এই আশাতেই প্রতিবছর চাষ করেন কৃষকরা।
কিন্তু এ বছর ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। চাষিদের অভিযোগ, ফলন বেশি হলেও দাম মিলছে না। সোমবার বাজারে কুইন্টাল প্রতি দর ছিল মাত্র ৪৭০ টাকা। অথচ বিঘা প্রতি চাষের খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে গড়ে ৬০ কুইন্টাল ফলন হলেও বিক্রি করে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে বলে দাবি চাষিদের।
আলুচাষি অসিত ও সঙ্গীত শাসমল বলেন, “ফলন ভালো হলেও দাম নেই। ধারদেনা করে চাষ করেছি। খরচই যদি না ওঠে, তাহলে সংসার চলবে কী করে?” তাঁদের দাবি, হিমঘরে এখনও পুরোনো আলু মজুত রয়েছে। সেই আলুই বাজারে বেশি যাচ্ছে, ফলে নতুন পোখরাজ আলুর চাহিদা কমে গেছে।
চন্দ্রকোণার দুই ব্লক মিলিয়ে প্রায় ৩০টি হিমঘর রয়েছে। গত বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু লোড হয়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হিমঘর খালি করার কথা। কিন্তু অনেক জায়গায় এখনও মজুত রয়েছে পুরোনো আলু। মার্চ থেকে নতুন করে লোডিং শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
এক আলু ব্যবসায়ী বিকাশ ঘোষ বলেন, “ভিন রাজ্যে আগের মতো রপ্তানি হচ্ছে না। ওডিশা, বিহার, ঝাড়খণ্ডে আগে বেশি যেত। এখন উত্তরপ্রদেশের আলুর চাহিদা বেড়েছে। ফলে আমাদের বাজার কমেছে।”
পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সহ-সভাপতি মুকুল ঘোষের কথায়, “গত বছরও ফলন বেশি ছিল, এ বছরও তাই। কিন্তু বিক্রির জায়গা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও চাপে। কিনলেও কোথায় বিক্রি করবে?”
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের পরও হিমঘরে আলু মজুত থাকলে তা নিলামের বিধান রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর অফ এগ্রিকালচার নির্মল দাস বলেন, “৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মজুত খালি করার কথা। কেউ না নিলে আইন অনুযায়ী নিলামের ব্যবস্থা রয়েছে।” যদিও এক হিমঘর মালিক স্বীকার করেছেন, তাঁর হিমঘরে এখনও ৩০ হাজারের বেশি বস্তা আলু রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ফলন ভালো হলেও বাজারদরের পতনে চন্দ্রকোণার আলুচাষিরা এখন গভীর দুশ্চিন্তায়। সামনে জ্যোতি ও কেবিএস প্রজাতির আলুও মাঠ থেকে উঠবে—তখন পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা কৃষিমহলের।

