পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে। নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট বার্তা দেন—যেসব ক্লাব সরকার প্রদত্ত অনুদান পায়, তাদের মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখতে হবে। না হলে আগামী বছর থেকে অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
গত বৃহস্পতিবার নন্দকুমার বিডিও অফিস সংলগ্ন এক অনুষ্ঠানে ৬৬টি পূজো কমিটির হাতে সরকারি অনুদান তুলে দেওয়া হয়। সেই সভাতেই বিধায়ক সুকুমার দে জানান, কয়েকটি ক্লাব অনুদান পেলেও মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখে না। এই নিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আগামীতে ডায়েরি হাতে প্রতিটি মণ্ডপ ঘুরে তিনি নিজেই খোঁজ নেবেন। কোথাও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি না থাকলে অনুদান আটকে দেওয়া হবে।
এই মন্তব্যের ভিডিও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য—“এই অনুদান জনগণের করের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। বিধায়ক যেন মনে করছেন, টাকাটা তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি।” শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, “রাজ্য সরকার ঋণ নিয়ে ক্লাবগুলিকে টাকা দিচ্ছে। এটা কারোর বাবার টাকা নয়। নন্দকুমারে বিজেপির লিড আছে, আগামী ভোটে ওঁকে ২৫ হাজার ভোটে হারাব।”
অন্যদিকে, নিজের বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করে সুকুমার দে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আদালতের নানা জটিলতার মধ্যেও দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দিচ্ছেন। অথচ কিছু ক্লাব সরকারের প্রকল্প বা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে না। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বা অন্যান্য রাজ্যের প্রকল্পে যেমন প্রধানমন্ত্রীর বা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও তা স্বাভাবিক। তিনি এটিই বোঝাতে চেয়েছিলেন, ধমকানোর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এমনটাই জানান তিনি।

