রাতের অন্ধকারে হোটেলের আড়ালে চলছিল দেহ ব্যবসা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তৎপর মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে মতিঝিল বাইপাস সংলগ্ন একটি হোটেলে হানা দিয়ে মধুচক্রের পর্দাফাঁস করে পুলিশ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজন মহিলা, হোটেলের ম্যানেজার এবং আরও এক ব্যক্তিকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ মুর্শিদাবাদ থানার আইসি রাজা সরকারের নেতৃত্বে শুরু হয় অভিযান। দীর্ঘদিন ধরেই ওই হোটেল ঘিরে দেহ ব্যবসার অভিযোগ উঠছিল। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের হানা, আর তাতেই সামনে আসে এই চক্রের আসল চিত্র।
জানা গেছে, ধৃত তিনজন মহিলা বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা। অপর দুই অভিযুক্তের মধ্যে হোটেল ম্যানেজার এবং এক ব্যক্তি দৌলতাবাদ এলাকার বাসিন্দা। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা দেহ ব্যবসায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে সূত্রের খবর।
আজ ধৃতদের আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রের পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশের ধারণা, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মহিলাদের প্রলোভন দেখিয়ে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হত।
এ বিষয়ে প্রেস মিট করে লালবাগ মহকুমা আরক্ষা আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, “মুর্শিদাবাদ থানার এলাকায় দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই এলাকায় এটি ২৫তম সফল অভিযান।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুলিশের এমন তৎপরতায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্নও উঠছে—এই হোটেলগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি আরও কড়া হলে কি আগেই রুখে দেওয়া যেত এমন অপরাধ? পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

