পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং মানেই মাদুর। মাদুর মানেই সবং—প্রচলিত এই কথাই যেন সবংয়ের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মাদুরের বাইরেও সবংয়ের রয়েছে অন্য গৌরবগাথা। এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী, যাদের নাম ইতিহাসের পাতায় থাকলেও আজকের প্রজন্মের অনেকেই তাদের চিনে না। আজ সেই অজানা ইতিহাসের পাতায় উঁকি দিলাম আমরা।
সবংয়ের এক প্রত্যন্ত গ্রাম দশগ্রাম। এখানকার মানুষ বলেন—“এই মাটি স্বাধীনতার মাটি, সাহিত্য-সংস্কৃতির মাটি।” সেই দশগ্রামেই, ১৯০১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জন্ম নিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা সবংয়ের প্রথম বিধায়ক গোপাল দাস অধিকারী।
আজ আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম তাঁর বাড়িতে (স্বাধীনতা সংগ্রামী গোপাল দাস)। আমাদের সঙ্গে কথা বললেন গোপাল বাবুর ছেলে স্বরাজ দাস অধিকারী। তিনি আবেগ ভরা কণ্ঠে বললেন— “তখন আমার বয়স মাত্র পাঁচ বছর। বাবা-মায়ের হাত ধরে নৌকায় করে কেলেঘাই নদী পেরিয়ে গিয়েছিলাম মহিষাদলে। আর সেখানেই প্রথম দেখি মহাত্মা গান্ধীজি সুতো কাটছেন চরকায়। সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁর সঙ্গে বসে প্রায় এক ঘণ্টা চরকা কাটার। এমনকি পুরষ্কারও পেয়েছিলাম তাঁর হাত থেকে।”
তিনি আরও জানান, “বাবা সারাজীবন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছেন। ১৯৮৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি প্রয়াত হন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি স্বাধীনতার চেতনা বুকে ধারণ করেছিলেন।”
স্বাধীনতা সংগ্রামী গোপাল দাস অধিকারীর বাড়িতে এখনো রয়েছে তাঁর জীবনের বহু স্মৃতি। এই বিষয়ে স্বরাজ বাবু জানালেন, “একবার বিধানসভায় থাকার সময় আমাদের ঘরের বাড়িতে ভয়াবহ আগুন লাগে। আর সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অনেক মূল্যবান ছবি, দলিল-দস্তাবেজ। কিছু যা বেঁচে গেছে, সেগুলো আজও বাড়ির দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে। প্রতিটি ছবির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বাবার সংগ্রামের ইতিহাস।” আজও দশগ্রামের মানুষ গর্ব করে বলেন—“এই মাটি স্বাধীনতার মাটি, এই মাটি গোপাল দাস অধিকারীর মাটি।”

